উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
ফরিদপুরের একটি গ্রামের জনাব কবির উদ্দিন একজন ফুলকপি চাষি দেশ স্বাধীনের পর থেকেই তিনি ফুলচাষ ও বিপনন করেন। তিনি মনে করেন ফুল একটি পরিবেশবান্ধব পণ্য এবং এর বিপননে তিনি নৈতিকতা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেন। ফলশ্রুতিতে দেশের চাহিদাপূরণ করে বিদেশেও তিনি এই কৃষিপণ্যটি বিপণন করেন। ফলে অল্প দিনে জনাব কবির উদ্দিন কুলচাষে লাভবান হন। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই ফুল চাষ শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আয় ও ভোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
- ক)(1)
ক্রেতার সন্তুষ্টি কী?
- খ)(2)
বিপণন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব কবির উদ্দিনের ফুলচাষ বিপণনের কোন যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফরিদপুরের ফুলচাষিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রকৃত উপযোগিতা এবং ক্রেতার পূর্বপ্রত্যাশার মধ্যকার ইতিবাচক তুলনামূলক অনুভূতিই হলো ক্রেতার সন্তুষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তার প্রয়োজন ও সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য ও সেবা উৎপাদন থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে।
বিপণনের মূল উদ্দেশ্য কেবল পণ্য বিক্রয় নয়, বরং ক্রেতার প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করা এবং ক্রেতার সাথে দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব কবির উদ্দিনের ফুলচাষ বিপণনের ক্রমবিকাশের 'সামাজিক বিপণন যুগ' (Social Marketing Era)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামাজিক বিপণন মতবাদ অনুযায়ী, বিপণনকারীকে শুধু ক্রেতার সন্তুষ্টি ও কোম্পানির মুনাফাই বিবেচনা করলে চলে না, বরং সমাজ, মানবকল্যাণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করতে হয়। অর্থাৎ লাভ, ভোক্তা সন্তুষ্টি এবং সামাজিক ও পরিবেশগত কল্যাণ—এই তিনটির সমন্বয়ে এ যুগ পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, জনাব কবির উদ্দিন ফুলকে একটি পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি এর বিপণনে নৈতিকতা, পরিবেশগত বিষয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করেছেন। নৈতিকতা ও পরিবেশের ওপর জোর দিয়ে পরিচালিত এই কার্যক্রম আধুনিক সামাজিক বিপণন দর্শনের প্রতিফলন। অতএব, তাঁর কার্যক্রমটি সামাজিক বিপণন যুগের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফরিদপুরের ফুলচাষিদের ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্যকরণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ফুলচাষ কেবল একটি নান্দনিক পেশা নয়, এটি একটি উচ্চমূল্যের লাভজনক বাণিজ্যিক কৃষিশিল্প।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব কবির উদ্দিন ফুলচাষে সফল হয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ফুল রপ্তানি করছেন। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই ফুলচাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাণিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন শুরু করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুবিধ ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যেমন—
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ফুল উৎপাদন, পরিচর্যা, প্যাকিং ও বিপণনে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: ফুল বিদেশে রপ্তানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
৩. বিনিয়োগ ও আয় বৃদ্ধি: ফুলচাষকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন পুঁজি বিনিয়োগ হচ্ছে, চাষিদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে আয় এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ছে।
৪. সামগ্রিক ভোগ ও অর্থনীতি সচল রাখা: আয় বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে।পরিশেষে বলা যায়, ফরিদপুরের ফুলচাষিরা দেশীয় চাহিদা পূরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির মাধ্যমে কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এক অনন্য ভূমিকা রাখছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও