সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

সহপাঠ প্রশ্ন

নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা হাকিম। জীবন-জীবিকার জন্য সে চলে যায় শহরে। রিকসা চালিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমেই প্রতিপত্তির মালিক হয়ে অভিজাতদের দলভুক্ত হয়।

  1. ক)

    "নাফরমানি করিও না" উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।" ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত"-তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "নাফরমানি করিও না" উক্তিটি মজিদের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটি দিয়ে মজিদের চোখের ভাবলেশহীন, সুদূরপ্রসারী এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের দৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ যখন মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে মোদাচ্ছের পীরের মাজার প্রতিষ্ঠা করে নিজের আধিপত্য কায়েম করার সূচনা করে, তখন তার চোখে ছিল গভীর ধূর্ততা এবং অবিচলতার প্রতীক। বিশ্বাসের ভান করে সে মানুষের মনে স্থান করে নেয়। তার চোখের দৃষ্টিতে কোনো সংশয় বা দুর্বলতা ধরা পড়ে না, বরং মনে হয় তা বিশ্বাসের শক্ত পাথরে স্থায়ীভাবে খোদাই করা, যা মানুষকে সহজেই বশীভূত ও সম্মোহিত করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নীতিহীন উপায়ে সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ ছিল ক্ষুধার্ত, সর্বস্বান্ত এক ছিন্নমূল মানুষ। সে জীবন বাঁচানো ও নিজের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য পাহাড়ি অঞ্চল ছেড়ে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। সেখানে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার দাবি করে ধর্মব্যবসার মাধ্যমে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে।

    উদ্দীপকের হাকিমও নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য শহরে চলে যায়। টিকে থাকার জন্য প্রথমে রিকশা চালালেও পরে সে অবৈধ ব্যবসার পথ বেছে নেয় এবং ধনী ও প্রতিপত্তিশালী হয়ে অভিজাতদের কাতারে শামিল হয়। মজিদ ও হাকিম উভয়েই চরম অভাব থেকে নিজেদের টিকিয়ে রাখা এবং ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য অন্যায় ও অনৈতিক পথ গ্রহণ করেছে। ফলে প্রতিকূল পরিবেশের শিকার হয়ে অনৈতিক কৌশলে প্রতিষ্ঠা লাভের এই দিকটি উপন্যাস ও উদ্দীপকের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত"—মন্তব্যটি যথার্থ।

    অস্তিত্ববাদ মূলত মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা, চরম সংকটে নিজের টিকে থাকার লড়াই এবং ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার্থে যেকোনো পথ বেছে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে। মানুষ যখন বাঁচার তাগিদে লড়াই করে, তখন সে নৈতিকতার চেয়ে নিজের আত্মরক্ষা ও প্রতিষ্ঠা পাওয়াকেই বড় করে দেখে।

    'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ শস্যহীন অঞ্চলের ক্ষুধার্ত মানুষ। নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সে মহব্বতনগর গ্রামে ধর্মকে পুঁজি করে এক মিথ্যার আশ্রয় নেয়। মাজারকে কেন্দ্র করে সে আধিপত্য বিস্তার করে এবং সেই অবস্থান ধরে রাখতে পুরো গ্রামবাসীর ভয় ও অন্ধবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত চরম ঝড়-তুফানের মধ্যেও সে ভিটেমাটি আঁকড়ে ধরে থাকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাড়নায়।

    অনুরূপভাবে উদ্দীপকের হাকিম নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে টিকে থাকার জন্য শহরে যায়। সেখানে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে সে অবৈধ ব্যবসাকে অবলম্বন করে বিত্ত ও প্রতিপত্তির মালিক হয়। মজিদের পথ ছিল ধর্মীয় প্রতারণা, আর হাকিমের পথ ছিল অবৈধ ব্যবসা; কিন্তু উভয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্তিত্ব রক্ষা ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

    সুতরাং দেখা যায়, মজিদ ও হাকিম উভয়ই বাস্তবতার নির্মম আঘাতে পিষ্ট হয়ে টিকে থাকার অদম্য আকাক্সক্ষায় নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তাই উভয়ের আচরণেই অস্তিত্ববাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন