রসায়ন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

স্টার্চ +nH2O⟶ ডায়াস্টেজ(40−50∘C) +\mathrm{nH}{2} \mathrm{O} \underset{\left(40-50^{\circ} \mathrm{C}\right)}{\stackrel{\text { ডায়াস্টেজ}}{\longrightarrow}} ′A′'A'′A′+H2O→(20−25∘C) ম্যাল্টেজ ′B′ { }^{\prime} \mathrm{A}^{\prime}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O} \xrightarrow[\left(20-25^{\circ} \mathrm{C}\right)]{{\text { ম্যাল্টেজ }}{}}{ }^{\prime} \mathrm{B}^{\prime} ′B′'B' ⟶ জাইলেম (20−25∘C) \underset{\left(20-25^{\circ} \mathrm{C}\right)}{\stackrel{\text { জাইলেম }}{\longrightarrow}} ′C′+CO2'C' +\mathrm{CO}{2} ′C′'C' + বায়ু → ব্যাকটেরিয়া ′D′+H2O \xrightarrow{\text { ব্যাকটেরিয়া }}{ }^{\prime} D^{\prime}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O}

  1. ক)

    দ্রাব্যতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    Zn কে অবস্থান্তর ধাতু বলা হয় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সমীকরণ পূর্ণ করে A, B, C, D চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ‘D' যৌগের কৌশল যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবককে সম্পৃক্ত দ্রবণে পরিণত করতে যত গ্রাম দ্রবের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ তাপমাত্রায় ঐ দ্রবের দ্রাব্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব d-ব্লক মৌলের অন্তত একটি সুস্থিত আয়নে d-অরবিটাল অপূর্ণ বা আংশিক পূর্ণ (d¹⁻⁹) থাকে, তাদেরকে অবস্থান্তর ধাতু বলে। জিঙ্কের (Zn) ইলেকট্রন বিন্যাস হলো [Ar] 3d¹⁰ 4s²। এর একমাত্র সুস্থিত আয়ন Zn²⁺ এর ইলেকট্রন বিন্যাস হলো [Ar] 3d¹⁰। যেহেতু Zn²⁺ আয়নে d-অরবিটালটি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ (d¹⁰) থাকে অর্থাৎ আংশিক পূর্ণ থাকে না, তাই জিঙ্ক d-ব্লক মৌল হলেও অবস্থান্তর ধাতু নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্টার্চ হতে ভিনেগার (অ্যাসিটিক অ্যাসিড) তৈরির ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে:

    ১. স্টার্চের আর্দ্রবিশ্লেষণ:
    2(C₆H₁₀O₅)ₙ + nH₂O —(ডায়াস্টেজ, ৪০-৫০°C)→ n C₁₂H₂₂O₁₁
    অতএব, 'A' যৌগটি হলো মল্টোজ (C₁₂H₂₂O₁₁)।

    ২. মল্টোজের আর্দ্রবিশ্লেষণ:
    C₁₂H₂₂O₁₁ + H₂O —(ম্যাল্টেজ, ২০-২৫°C)→ 2 C₆H₁₂O₆
    অতএব, 'B' যৌগটি হলো গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆)।

    ৩. গ্লুকোজের ফার্মেন্টেশন:
    C₆H₁₂O₆ —(জাইমেজ, ২০-২৫°C)→ 2 C₂H₅OH + 2CO₂
    অতএব, 'C' যৌগটি হলো ইথানল (C₂H₅OH)।

    ৪. ইথানলের জারণ:
    C₂H₅OH + O₂ —(মাইকোডার্মা অ্যাসিটিক ব্যাকটেরিয়া)→ CH₃COOH + H₂O
    অতএব, 'D' যৌগটি হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা ইথানয়িক অ্যাসিড (CH₃COOH)।

    সুতরাং চিহ্নিত যৌগসমূহ:
    A = মল্টোজ (Maltose)
    B = গ্লুকোজ (Glucose)
    C = ইথানল (Ethanol)
    D = অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic acid)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'D' যৌগটি হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH₃COOH), যার ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা বা কৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি ও pH হ্রাস:
    ভিনেগার বা অ্যাসিটিক অ্যাসিড মৃদু অ্যাসিড হওয়ায় এটি জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়ে প্রোটন (H⁺) উৎপন্ন করে:
    CH₃COOH ⇌ CH₃COO⁻ + H⁺
    এর ফলে খাদ্যের অভ্যন্তরীণ pH দ্রুত হ্রাস পেয়ে ৩.৫ থেকে ৪.৫-এর নিচে নেমে যায়।

    ২. অণুজীব ধ্বংস ও বৃদ্ধি রোধ:
    বেশিরভাগ ক্ষতিকর খাদ্য-পচনকারী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল pH হলো ৬.৫ থেকে ৭.৫। pH ৪.৫ এর নিচে নেমে গেলে এসব ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ও প্রোটিন-গঠিত এনজাইম বিকৃত (denature) হয়ে যায়। ফলে বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অণুজীবগুলো ধ্বংস হয় অথবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

    ৩. অবিয়োজিত অণুর ভূমিকা:
    অ্যাসিটিক অ্যাসিডের অবিয়োজিত মৃদু মেরু অণু ব্যাকটেরিয়ার লিপিড সমৃদ্ধ কোষঝিল্লি ভেদ করে সরাসরি কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে উচ্চ pH-এ এটি বিয়োজিত হয়ে প্রোটন মুক্ত করে অভ্যন্তরীণ pH কমিয়ে দেয়, যা ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার প্রতিকূল।

    ৪. খাদ্য জারণ রোধ:
    অম্লীয় পরিবেশের কারণে খাদ্য উপাদান নষ্টকারী এনজাইমীয় জারণ প্রক্রিয়া প্রতিহত হয়, ফলে খাদ্যের স্বাভাবিক স্বাদ, বর্ণ ও গুণগত মান দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ থাকে।

    সুতরাং, উপযুক্ত অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা রোধের মাধ্যমেই 'D' যৌগ (ভিনেগার) খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন