যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
সুমন ঠান্ডা জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে টনসিলাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়। আবার ঠান্ডা খাবার পরিহার করলে টনসিলাইটিস রোগে আক্রান্ত হয় না। এতে প্রতীয়মান হয়, ঠান্ডা খাবারই তার টনসিলাইটিস এর কারণ।
- ক)(1)
পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কত প্রকার?
- খ)(2)
অন্বয়ী পদ্ধতিকে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃষ্টান্তটি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণে কোন পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পদ্ধতির সুবিধাগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি মোট ৫ (পাঁচ) প্রকার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্বয়ী পদ্ধতিতে যেসব দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেগুলো সচরাচর প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে থাকে। অর্থাৎ গবেষক নিজে নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশে ঘটনাটি না ঘটিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘটা দৃষ্টান্তগুলোকে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করেন। নিরীক্ষণের ওপর মূলত নির্ভরশীল হওয়ার কারণেই অন্বয়ী পদ্ধতিকে 'নিরীক্ষণের পদ্ধতি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃষ্টান্তটি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণে জন স্টুয়ার্ট মিলের 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' (Method of Difference)-র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
ব্যতিরেকী পদ্ধতির মূল কথা হলো: আলোচ্য ঘটনার উপস্থিতির একটি দৃষ্টান্তে এবং অনুপস্থিতির অপর একটি দৃষ্টান্তে যদি একটি অবস্থা ছাড়া বাকি সব অবস্থা এক থাকে, তবে যে অবস্থাটিতে দৃষ্টান্ত দুটির পার্থক্য রয়েছে, সেটিই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য বা আবশ্যিক অংশ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করলে টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হয় (সদর্থক দৃষ্টান্ত)। আবার ঠান্ডা খাবার পরিহার করলে টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হয় না (নঞর্থক দৃষ্টান্ত)। এখানে অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা একই রেখে কেবল ঠান্ডা খাবার উপস্থিত থাকলে রোগটি হয় এবং অনুপস্থিত থাকলে রোগটি হয় না। সুতরাং, ব্যতিরেকী পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী ঠান্ডা খাবারই টনসিলাইটিস রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পদ্ধতিটি হলো 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'। যুক্তিবিদ্যায় কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয়ে এ পদ্ধতির বহুবিধ সুবিধা রয়েছে, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দান: এটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক পদ্ধতি। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা সম্ভব হওয়ায় এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত অন্বয়ী পদ্ধতির মতো সম্ভাব্য নয়, বরং অনেক বেশি নিশ্চিত ও নির্ভুল হয়।
২. কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্যে গমন: এ পদ্ধতির সাহায্যে কারণ জানা থাকলে তার কার্য যেমন নির্ণয় করা যায়, তেমনি কার্য উপস্থিত থাকলে তার কারণও নিশ্চিতভাবে আবিষ্কার করা যায়।
৩. সহগামী পরিবর্তন বা অপনয়নের সহজ প্রয়োগ: কেবল একটি উপাদানের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সহজেই অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে অপনয়ন (বর্জন) করা যায়।
৪. প্রকৃতির জটিলতা পরিহার: নিরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোতে বহু ঘটনার ভিড়ে আসল কারণ শনাক্ত করা কঠিন হলেও ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে একটি মাত্র শর্তের হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে সুস্পষ্ট কার্যকারণ রূপ ধরা পড়ে।সুতরাং, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যতিরেকী পদ্ধতি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও