ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আবাসন ও বিলাসবহুল পণ্য ক্রয়ের অধিক পরিমাণ ঋণ দেয়ায় বাজারে মুদ্রাস্ফীতি অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধ্যতামূলক জমার হার ১%১% বৃদ্ধি করে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে বিদ্যমান স্থবিরতা কাটানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাকে এই খাতে ২০%২০% ঋণ দেয়ার নির্দেশনা জারি করে।

  1. ক)

    মুদ্রা সংকোচন কী?

    (1)
  2. খ)

    জমার হার পরিবর্তন কীভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ম পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন সংখ্যাত্মক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ যৌক্তিক? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের সরবরাহ হ্রাসের কারণে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরিস্থিতিকে মুদ্রা সংকোচন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জমার হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বা উদ্বৃত্ত তারল্য কমে যায়, ফলে বাজারে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়। পক্ষান্তরে জমার হার হ্রাস করলে ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা বাড়ে। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জমার হার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাজারে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ম পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ ঋণ নিয়ন্ত্রণের সংখ্যাত্মক বা সাধারণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত 'বাধ্যতামূলক জমার হারের পরিবর্তন' পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।

    যেসব পদ্ধতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণের সামগ্রিক পরিমাণ বা মোট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোকে সংখ্যাত্মক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। এর অন্যতম একটি উপায় হলো ব্যাংকগুলোর নগদ জমার অনুপাত হ্রাস-বৃদ্ধি করা।

    উদ্দীপকে আবাসন ও বিলাসবহুল খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিক ঋণের বিস্তার রোধ করতে বাধ্যতামূলক জমার হার ১% বৃদ্ধি করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদানযোগ্য তহবিল হ্রাস পেয়ে সার্বিক ঋণ সংকোচন ঘটে। সুতরাং, ১ম পদক্ষেপটি সংখ্যাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত জমার হারের পরিবর্তন নীতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারমূলক খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গুণগত বা বাচনিক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ কোনো সংকটাপন্ন বা গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঋণের কোটা নির্ধারণ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ প্রদানের নির্দেশনা জারি করে থাকে।

    উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পে স্থবিরতা তৈরি হয়। এই স্থবিরতা দূর না হলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি পোশাক শিল্পে ২০% ঋণ বরাদ্দের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়। এটি ঋণের রেশনিং পদ্ধতির একটি রূপ, যার মাধ্যমে অনুৎপাদনশীল খাত থেকে ঋণ প্রত্যাহার করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্যে একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ সংকটাপন্ন খাতে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।

    অতএব, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি রক্ষা ও শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন