বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

7.1.

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

7.2.

অথবা, নিম্নোক্ত ইঙ্গিত অবলম্বনে একটি খুদেগল্প রচনা করো:
এখন পৌষ মাস। কাকলি গ্রামে বেড়াতে এসেছে। সেদিনই গ্রামের স্কুল মাঠে বসেছিল পৌষের পিঠামেলা। মেলায় ঘুরতে এসে কাকলির দৃষ্টি আটকে গেল...

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

৭.১-এর উত্তর (সংলাপ):

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধু আসিফ ও নাবিলের সংলাপ:

আসিফ: কেমন আছিস নাবিল? আজকাল কেমন অসহ্য গরম পড়ছে খেয়াল করছিস?
নাবিল: ভালো আছি আসিফ। আর গরমের কথা বলিস না! কয়েক বছর ধরে দেখছি তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে।
আসিফ: ঠিক বলেছিস। এর প্রধান কারণ কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা। আমাদের প্রকৃতিতে উষ্ণতা মারাত্মক হারে বাড়ছে।
নাবিল: হ্যাঁ, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। আর এতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
আসিফ: আমাদের দেশের জন্যও এটি চরম বিপদ। এর প্রভাবে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘন আঘাত হানছে।
নাবিল: সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, আমরা প্রতিদিন বনজঙ্গল উজাড় করছি অথচ বৃক্ষরোপণের দিকে ততটা নজর দিচ্ছি না।
আসিফ: একদম যথার্থ। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক উপায় হলো বৃক্ষরোপণ। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয়।
নাবিল: ঠিক বলেছিস। গাছপালা বায়ুমণ্ডল শীতল রাখে, ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আমাদের দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার, যা বর্তমানে অপ্রতুল।
আসিফ: তাহলে চল, আমরা শুধু মুখে না বলে নিজেরা বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিই। আমাদের বাড়ির চারপাশের খালি জায়গায় এবং স্কুল প্রাঙ্গণে কিছু গাছ লাগাই।
নাবিল: চমৎকার প্রস্তাব! আমাদের সহপাঠীদের নিয়েও একটি বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করা যায়। প্রকৃতি বাঁচলেই তো আমরা বাঁচব।
আসিফ: একমত। চল আজ থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি।


৭.২-এর উত্তর (খুদেগল্প):

পৌষের মিষ্টি রোদ ও একখণ্ড মানবিকতা

এখন পৌষ মাস। শীতের মিষ্টি আমেজ চারদিকে। শহরের ইট-কাঠের খাঁচা থেকে ছুটি নিয়ে কাকলি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। সেদিনই গ্রামের স্কুল মাঠে বসেছিল পৌষের পিঠামেলা। মেলায় ঘুরতে এসে কাকলির দৃষ্টি আটকে গেল ভিড়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরীর দিকে।

মেয়েটির পরনে ছেঁড়া একটা সোয়েটার, খালি পা। দূর থেকে সে সতৃষ্ণ নয়নে তাকিয়ে ছিল ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার দোকানটির দিকে। সেখানে গুড় আর নারকেলের সুবাসে বাতাস মেতে উঠেছে। মেলায় আসা উৎসবমুখর মানুষেরা হইচই করে পিঠা খাচ্ছে, হাসাহাসি করছে। কিন্তু ওই কিশোরীটির চোখ যেন একরাশ না-পাওয়ার নীরব দীর্ঘশ্বাসে ভরা। কাকলির মনটা এক নিমিষেই ভারী হয়ে উঠল। উৎসবের আলোয় এমন অন্ধকারের ছবি তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিল।

কাকলি ধীর পায়ে মেয়েটির কাছে এগিয়ে গেল। আলতো করে তার মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করল, “তোমার নাম কী?” মেয়েটি একটু ভয় পেয়ে নিচু স্বরে বলল, “ময়না।” কাকলি হাসিমুখে বলল, “পিঠা খাবে ময়না?” ময়না অবাক হয়ে চোখ তুলে তাকাল, বিশ্বাসই করতে পারছিল না কথাটা।

কাকলি তাকে হাত ধরে নিয়ে গেল পিঠার দোকানে। গরম গরম চিতই, ভাপা আর দুধপুলি পিঠা কিনে দিল পেট ভরে খাওয়ার জন্য। ময়নার চোখের আনন্দ আর তৃপ্তির হাসি যেন ভোরের প্রথম রোদকেও হার মানাল। কাকলি মেলা থেকে ময়নাকে একটা নতুন শালও কিনে দিল শীত নিবারণের জন্য। বাড়ি ফেরার পথে কাকলি অনুভব করল, শুধু নিজের আনন্দে মেতে ওঠায় প্রকৃত সুখ নেই; অন্যের মুখে একচিলতে হাসি ফোটাতে পারাই জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও উৎসবের সার্থকতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন