ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
কুসমবাগ এলাকার ৭৬ জন বাসিন্দ স্বল্পমূল্যে পণ্য ক্রয়ের জন্য প্রত্যাশা’ নামে সমবায় সমিতি গঠন করে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় উৎপাদনকারী ও নিকটস্থ বাজার হতে পণ্য ক্রয় করে স্বল্পলাভে সদস্যদের মধ্যে বিক্রি করে। প্রত্যেক সদস্যের ক্রয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট টোকেনের মাধ্যমে হিসাব করে রাখা হয়।
- ক)(1)
উপবিধি কাকে বলে?
- খ)(2)
সমবায়ের শেয়ার ক্রয় সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
সাংগঠনিক স্তর বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির দরন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রকৃতি বিচারে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের ক্রয়ের হিসাব রাখার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলি সংবলিত দলিলকে সমবায় উপবিধি (By-laws) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির আইনানুযায়ী কোনো একক সদস্য সমিতির মোট শেয়ার মূলধনের সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ বা ২০%) পর্যন্ত শেয়ার ক্রয় করতে পারেন।
সমবায় সমিতিতে যাতে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার না ঘটে এবং সমতার নীতি বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে এই আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বেশি মূলধন বিনিয়োগ করে কোনো সদস্য একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না এবং সকল সদস্যের সমঅধিকার নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাংগঠনিক স্তর বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি 'প্রাথমিক সমবায় সমিতি'।
সমবায় আইনের বিধান ও সাংগঠনিক স্তর অনুসারে সমবায় সমিতিকে সাধারণত তিন স্তরে ভাগ করা যায়—প্রাথমিক সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও জাতীয় সমবায় সমিতি। যেসব সমবায় সমিতি ন্যূনতম ২০ জন একক ব্যক্তি সদস্য নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে গঠিত হয় এবং যার উদ্দেশ্য থাকে সদস্যদের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন, তাকে প্রাথমিক সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকের 'প্রত্যাশা' সমবায় সমিতিটি কুসুমবাগ এলাকার ৭৬ জন সাধারণ বাসিন্দা (ব্যক্তি সদস্য) মিলে গঠন করেছেন। এখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য নেই এবং এটি তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত। সাংগঠনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন ও মূল ভিত্তি স্তর হওয়ায় স্তর বিবেচনায় এটি একটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতি বিচারে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি 'ভোক্তা সমবায় সমিতি' এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে লভ্যাংশ বণ্টনের সুবিধার জন্য সদস্যদের ক্রয়ের হিসাব রাখা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
ভোক্তা সমবায় সমিতির মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে ন্যায্যমূল্যে সদস্যদের নিকট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা। বছর শেষে সমিতির অর্জিত নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ আইনানুযায়ী সংরক্ষিত তহবিলে রাখার পর অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত সদস্যদের মধ্যে শুধু শেয়ারের অনুপাতে বণ্টন না করে সদস্যদের সারা বছরের ক্রয়কৃত পণ্যের পরিমাণের ওপর আনুপাতিক হারে (ক্রয়ভিত্তিক বোনাস বা লভ্যাংশ হিসেবে) বণ্টন করা হয়। একে 'ক্রয়ভিত্তিক লভ্যাংশ' বা 'পৃষ্ঠপোষকতা রিফান্ড' বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কুসুমবাগ এলাকার বাসিন্দারা স্বল্পমূল্যে পণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে 'প্রত্যাশা' সমবায় সমিতি গঠন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় উৎপাদনকারী থেকে পণ্য কিনে স্বল্পলাভে সদস্যদের কাছে বিক্রি করে এবং সদস্যদের ক্রয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট টোকেনের মাধ্যমে হিসাব রাখে। ভোক্তা সমবায় সমিতির নীতি অনুসারে, যে সদস্য সমিতি থেকে যত বেশি পণ্য ক্রয় করে সমিতিকে সফল হতে সাহায্য করেছেন, তিনি তত বেশি ক্রয় বোনাস পাওয়ার অধিকারী হন।
অতএব, বছর শেষে সমবায় আইনের আওতায় ক্রয়ভিত্তিক বোনাস সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে বণ্টনের সুবিধার্থেই টোকেনের মাধ্যমে ক্রয়ের হিসাব রাখার পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও