বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখোআমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর। দেখো মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই।"
- ক)(1)
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যাদানা কী?
- খ)(2)
"সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখা" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
আত্মপরিচয়ের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটিতে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সমগ্রভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।"মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা হলো রক্তজবা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখা" বলতে মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অফুরন্ত প্রাণশক্তি এবং সত্য ও ন্যায়ের আলোকদীপ্ত চেতনাকে নিজের সত্তায় ধারণ করাকে বোঝানো হয়েছে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পূর্বপুরুষদের সংগ্রামী ইতিহাস ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সূর্য হলো আলো, শক্তি ও মুক্তির প্রতীক। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, যে ব্যক্তি মুক্তির স্বপ্ন ও বিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অন্তরে ধারণ করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সে-ই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয় এবং কবিতাকে সত্যরূপে উপলব্ধি করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে মাটির সঙ্গে আত্মিক সংযোগ ও শিকড়ের গভীর পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি নিজেকে এই বাংলার আবহমান কৃষিজীবী ও সংগ্রামী পূর্বপুরুষদের রক্তধারার উত্তরসূরি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন মাটির ঘনিষ্ঠ মানুষ—যাঁরা জমি কর্ষণ করতেন, প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে বেঁচে থাকতেন। সেই পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতায় কবিও নিজেকে এই ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকের চরণেও বক্তা লাঙল ও বৈঠার স্পর্শ, নিজের শরীরে মাটির সুবাস এবং মাটির প্রতি নিবিড় অনুভূতির মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তিনি কোনো ভিনদেশি আগন্তুক নন; বরং এই দেশেরই সন্তান। উভয় ক্ষেত্রেই মাটির প্রতি নাড়ির টান ও গভীর আত্মপরিচয় ব্যক্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটিতে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সমগ্রভাবের প্রতিফলন ঘটেনি"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে কেবল এই বাংলার মাটির সাথে মানুষের গভীর মমত্ববোধ, জন্মভূমির ঐতিহ্য এবং ভূমির সন্তান হিসেবে আপন পরিচয় ও ভালোবাসার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে নিজেকে মাটির প্রকৃত সন্তান দাবি করে আগন্তুক না হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি কেবল আত্মপরিচয় ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের বাঙালির শোষণ-বঞ্চনা ও দাসত্বের ইতিহাস, পূর্বপুরুষদের ওপর নেমে আসা নির্মম অত্যাচার, তাঁদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ এবং স্বাধীনতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। কবিতায় কবির পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা এসেছে, পাশাপাশি এসেছে কবিতা শোনার মাধ্যমে ভালোবাসা, যুদ্ধ ও মুক্তির অমর প্রেরণা লাভের বিষয়। শিল্প-সাহিত্য, কৃষি, প্রেম, মুক্তিকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি জাতির মুক্তির সামগ্রিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য এই কবিতায় বিধৃত হয়েছে।
অতএব, উদ্দীপকে দেশপ্রেম ও মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দিকটি এলেও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার শোষিত মানুষের দীর্ঘ লড়াই, বিপ্লবের ডাক এবং মুক্তির সামগ্রিক ইতিহাস অনুপস্থিত। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও