বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শাসনের নামে চলে শোষণের সুকঠিন যন্ত্র। বজ্রের হুঙ্কারে শৃঙ্খল ভাঙতেসংগ্রামী জনতা অতন্দ্র।আমি করি না করি না করি না ভয় জয় বাংলা বাংলার জয়।
- ক)(1)
'কুর্নিশ' কথাটির মানে কী?
- খ)(2)
"শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার কোন দিকটিকে নির্দেশ করেছে? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে কী? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কুর্নিশ' কথাটির মানে অভিবাদন, প্রণাম বা মাথা নত করে সালাম জানানো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণটির মাধ্যমে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিদ্রোহী সত্তার অপার মহিমা, আত্মমর্যাদা এবং হিমালয়কেও ছাড়িয়ে যাওয়া অপরাজেয় অহংকার প্রকাশ করেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে কোনো অধীনতা বা দাসত্বের কাছে মাথা নত না-করা এক অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। হিমালয় পর্বতের চূড়া প্রকৃতির এক চিরউন্নত ও সুউচ্চ প্রতীক। কবি তাঁর আত্মজাগরণ ও উন্নত শিরের তুলনায় হিমালয়ের শিখরকেও ক্ষুদ্র মনে করেছেন; কবির উদ্ধত ও উন্নত শির দেখে স্বয়ং হিমালয়ও যেন শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছে। চরণটি কবির সীমাহীন আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির আকাঙ্খার প্রকাশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার সংকল্প এবং নির্ভীক বিদ্রোহী চেতনার দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নজরুল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের নির্মম শোষণ, অত্যাচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে বজ্রনির্ঘোষে গর্জে উঠেছেন। তিনি উৎপীড়িত ও অত্যাচারিতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের অন্যায়ের শৃঙ্খল চূর্ণ করার ডাক দিয়েছেন। কবি চিরবিদ্রোহী হয়ে ঘোষণা করেছেন যে, অত্যাচারীর খড়্গ-কৃপাণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শোষকদের কঠিন যন্ত্র ও শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতা অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে উঠেছে। বজ্রের হুঙ্কারে তারা সব শৃঙ্খল ভাঙতে বদ্ধপরিকর এবং নির্ভীক চিত্তে বিজয়ের মন্ত্রে উজ্জীবিত।
অতএব, উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতার মধ্যে শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, ভীতিহীন সংগ্রাম এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার বিদ্রোহী ভাবাবেগগত দিকটির গভীর যোগসূত্র ও প্রতিফলন দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার একটি বিশেষ দিকের মিল থাকলেও এতে কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাই বলেননি; তিনি সেখানে মানুষের আত্মজাগরণ, চিরউন্নত সত্তা এবং মহাজাগতিক এক রূপ প্রকাশ করেছেন। নজরুল একাধারে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক। তিনি যেমন কালবৈশাখীর ঝড়, প্রলয় ও মহাদেব, তেমনই আবার কোমল বাঁশির সুর, প্রেম ও আশার বাণী। তিনি সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে মাতোয়ারা আবার অত্যাচারীর ধ্বংসের সংকল্পেও অবিচল। এভাবে রুদ্র ও সুন্দরের এক অপূর্ব দ্বৈত মিলনে 'বিদ্রোহী' কবিতাটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল শাসনের নামে চলমান শোষণের বিরুদ্ধে জনতার জেগে ওঠা, বজ্রকণ্ঠে শৃঙ্খল ভাঙা এবং নির্ভীক সংগ্রামের দিকটিই ফুটে উঠেছে। এখানে সম্মিলিত জনতার রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতার যে আত্মিক জাগরণ, বিশ্বকে জয় করার একক কবির উন্নত সত্তা, প্রণয় ও সৌন্দর্যচেতনা এবং ধ্বংস ও সৃষ্টির সমন্বিত রূপ—তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার অন্যতম প্রধান দিক শোষণবিরোধী সংগ্রামী মনোভাবকে স্পর্শ করলেও, কবিতার সামগ্রিক ব্যাপ্তি, দার্শনিক গভীরতা এবং সৌন্দর্য ও রুদ্রের যৌথ রূপের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও