রসায়ন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

চামড়া শিল্প →বর্জ্য পদার্থ\xrightarrow{\text{বর্জ্য পদার্থ}} নদী →\rightarrow পরিবেশ দূষণ

  1. ক)

    জুইটার আয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    C.F.C কীভাবে ওজন স্তরকে ধ্বংস করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত কাঁচামালটির ট্যানিং এ Na2Cr2O7 \mathrm{Na}{2} \mathrm{Cr}{2} \mathrm{O}{7} 3 H2SO4 \mathrm{H}{2} \mathrm{SO}_{4} এর ভূমিকা সমীকরণণসহ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের পরিবেশ দূষণে দূষকসমূহ দূরীকরণ সম্ভব কিনা বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই অণুর মধ্যে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় প্রকার আধান বা চার্জ উপস্থিত থাকলে সেই উভধর্মী ডাইপোলার আয়নকে জুইটার আয়ন (Zwitterion) বলে। যেমন: অ্যামাইনো এসিডের ডাইপোলার রূপ (+H₃N-CH(R)-COO⁻)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিএফসি (CFC) অণুগুলো অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় ও অস্থিতিস্থাপক হওয়ায় ট্রপোস্ফিয়ারে বিনষ্ট না হয়ে সরাসরি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। সেখানে অতিবেগুনি (UV) রশ্মির প্রভাবে CFC বিয়োজিত হয়ে অত্যন্ত সক্রিয় ক্লোরিন মুক্ত মূলক (Cl•) উৎপন্ন করে:
    CF₂Cl₂ + UV → CF₂Cl• + Cl•

    এই ক্লোরিন মুক্ত মূলক ওজন (O₃) অণুর সাথে বিক্রিয়া করে ক্লোরিন মনোক্সাইড মূলক (ClO•) ও অক্সিজেন তৈরি করে:
    Cl• + O₃ → ClO• + O₂

    পরবর্তীতে ClO• অক্সিজেন পরমাণুর সাথে বিক্রিয়া করে পুনরায় Cl• তৈরি করে:
    ClO• + O → Cl• + O₂

    উৎপন্ন Cl• পুনরায় নতুন ওজোন অণুকে ধ্বংস করে। এভাবে একটিমাত্র ক্লোরিন মূলক শৃঙ্খল বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার ওজোন অণু ভেঙে ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চামড়া শিল্পের কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার ক্রোম ট্যানিং প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম ডাইক্রোমেট (Na₂Cr₂O₇) এবং সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহৃত হয়। এদের বিজারণের মাধ্যমে ক্ষারকীয় ক্রোমিয়াম সালফেট [Cr(OH)SO₄] তৈরি হয়, যা ট্যানিং এর মূল সক্রিয় উপাদান।

    প্রথমে Na₂Cr₂O₇ ও H₂SO₄ এর সাথে উপযুক্ত বিজারক (যেমন- গ্লুকোজ বা SO₂) বিক্রিয়া করে ক্রোমিয়াম সালফেট [Cr₂(SO₄)₃] উৎপন্ন করে:
    Na₂Cr₂O₇ + 3SO₂ + H₂O → Na₂SO₄ + 2Cr(OH)SO₄
    অথবা সাধারণ বিজারণে:
    Na₂Cr₂O₇ + 4H₂SO₄ + 3SO₂ → Na₂SO₄ + Cr₂(SO₄)₃ + 3H₂SO₄ + H₂O

    এরপর সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করে ক্ষারকীয় ক্রোমিয়াম সালফেট তৈরি করা হয়:
    Cr₂(SO₄)₃ + Na₂CO₃ + H₂O → 2Cr(OH)SO₄ + Na₂SO₄ + CO₂

    এই ক্ষারকীয় ক্রোমিয়াম সালফেট [Cr(OH)SO₄] চামড়ার কোলাজেন প্রোটিনের পেপটাইড বন্ধন ও কার্বক্সিলিক মূলকের (-COO⁻) সাথে জটিল সন্নিবেশ বন্ধন তৈরি করে। ফলে কাঁচা চামড়া পচনের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং স্থায়ী ও টেকসই চামড়ায় রূপান্তরিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো ট্যানারি বা চামড়া শিল্প। এ শিল্প থেকে নির্গত প্রধান দূষকগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারী ধাতু ক্রোমিয়াম (Cr³⁺/Cr⁶⁺), ক্ষতিকর সালফাইড, ক্ষার, অম্ল, প্রোটিনযুক্ত কঠিন বর্জ্য ও লবণ। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দূষক দূরীকরণ বা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্পূর্ণরূপে সম্ভব।

    ১. ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন: সেন্ট্রাল বা নিজস্ব ETP-র মাধ্যমে তরল বর্জ্যের প্রাথমিক, গৌণ ও প্রগৌণ শোধন নিশ্চিত করা যায়।
    ২. ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার (Chrome Recovery Plant): ক্রোমিয়ামযুক্ত বর্জ্য পানিতে ক্ষার (যেমন- MgO বা Ca(OH)₂) যোগ করে Cr(OH)₃ হিসেবে অধঃক্ষিপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে H₂SO₄ মিশিয়ে পুনরায় ক্রোম ট্যানিংয়ে পুনর্ব্যবহার করা যায়, যা নদীকে ভারী ধাতুমুক্ত রাখে।
    ৩. জৈব বিশোধন (Biological Treatment): অ্যানারোবিক ও অ্যারোবিক পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জৈব দূষক ভেঙে BOD ও COD কমানো যায়।
    ৪. কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চামড়ার ছাঁট ও কঠিন বর্জ্যকে পুড়িয়ে বা ল্যান্ডফিলে না ফেলে জৈব সার বা বায়োগ্যাস উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব।

    সুতরাং, আধুনিক প্রযুক্তি, যথাযথ পরিবেশগত আইন প্রয়োগ এবং কেন্দ্রীয় শোধনাগার (CETP) সঠিকভাবে কার্যকর রাখলে চামড়া শিল্পের দূষকসমূহ কার্যকরভাবে দূরীকরণ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন