বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি একান্নবর্তী পরিবারের কর্তা জামিল হোসেনকে নানাদিকে খেয়াল রাখতে হয়। তিনি ছোট ভাইকে বিয়ে করান। ছোট বউ ঘরে আসার পর নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। সে বড় ভাই জামিল হোসেনের কর্তৃত্ব মেনে নিতে চায় না। তার স্বামীকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। ঘরে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরস্পরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিচক্ষণ বড় ভাই বুঝতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচন করে তাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দেন। ফলে একান্নবর্তী পরিবারের বন্ধন অটুট থাকে।
- ক)(1)
কোন ফরাসি সেনাপতি যুদ্ধের ময়দানে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
- খ)(2)
ক্লাইভ কেন উমিচাঁদকে যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছোট বউ এর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ষড়যন্ত্রকারী কোনো একটি চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য দেখাও।
- ঘ)(4)
"বিচক্ষণ জামিল হোসেনের মত কঠোরহস্তে ষড়যন্ত্র দমন করতে পারলে সিরাজউদ্দৌলা হতেন ইতিহাসের সফল নায়ক।"—উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে (Sinfray) পলাশীর যুদ্ধের ময়দানে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমিচাঁদ অতিরিক্ত অর্থলোভী হয়ে একই সাথে নবাব এবং ইংরেজ—উভয় পক্ষের সাথেই চরম বিশ্বাসঘাতকতামূলক দরকষাকষি ও প্রতারণার নীতি অবলম্বন করায় ক্লাইভ তাকে যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, উমিচাঁদ কোনো আদর্শ বা আনুগত্যের ধার ধারত না; সে কেবল নিজের আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য যেকোনো পক্ষকে বিক্রি করে দিতে প্রস্তুত ছিল। ষড়যন্ত্রের গোপন চুক্তি ফাঁস না করার শর্তে সে ইংরেজদের কাছে তিরিশ লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। তার এই চরম স্বার্থপরতা ও সীমাহীন লোভের কারণেই রবার্ট ক্লাইভ তাকে 'যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছোট বউয়ের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র ঘসেটি বেগমের সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা। কিন্তু নবাব হিসেবে সিরাজের সিংহাসন আরোহণ তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। পারিবারিক আত্মীয়তা ও রক্তের বন্ধন থাকা সত্ত্বেও তিনি নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজ, মীর জাফর এবং অন্যান্য কুচক্রীদের সাথে হাত মিলিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালাতে থাকেন। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধ্বংস করা।
উদ্দীপকের ছোট বউও একান্নবর্তী পরিবারের বড় ভাই জামিল হোসেনের কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারে না এবং ঘরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিবার ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ঘসেটি বেগমও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব মেনে নিতে না পেরে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন। উভয়ের মধ্যেই পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট করার এবং কর্তৃত্ব অস্বীকার করে অন্তর্ঘাত সৃষ্টির প্রবণতা বিদ্যমান, যা তাদের চরিত্রের প্রধান সাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বিচক্ষণ জামিল হোসেনের মতো কঠোরহস্তে ষড়যন্ত্র দমন করতে পারলে সিরাজউদ্দৌলা হতেন ইতিহাসের সফল নায়ক"—মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিচক্ষণ কর্তা জামিল হোসেন পরিবারের শান্তি বিনষ্টকারী ছোট বউয়ের ষড়যন্ত্র শুরুতেই টের পান এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার মুখোশ উন্মোচন করেন। ফলে ষড়যন্ত্র অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় এবং পরিবারের বন্ধন অটুট থাকে।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশপ্রেমিক ও সংবেদনশীল হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছিলেন কিছুটা আবেগপ্রবণ ও দ্বিধাগ্রস্ত। তাঁর দরবার ও পরিবার ঘিরেই গড়ে উঠেছিল মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠদের মতো স্বার্থান্বেষী চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র। নবাব তাদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হয়ে ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং কোরআন স্পর্শ করিয়ে মীর জাফরকে বিশ্বাস করেন। পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধক্ষেত্রে মীর জাফরের ওপর দায়িত্ব অর্পণের মতো চরম ভুল সিদ্ধান্ত সিরাজের পতন ত্বরান্বিত করে। তিনি যদি শুরুতেই দেশদ্রোহী ও কুচক্রীদের কঠোরহস্তে দমন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেন, তবে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হতো না।
অতএব, জামিল হোসেনের মতো বিচক্ষণতা ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবই সিরাজউদ্দৌলার ট্র্যাজেডির অন্যতম কারণ ছিল। তাই কঠোর হস্তে ষড়যন্ত্র দমন করতে পারলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের এক সফল নায়কে পরিণত হতে পারতেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও