সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সুকান্ত ভট্টাচার্য একজন তেজস্বী কবি। তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ধারণ করেন। তাঁর কবিতায় আছে মানুষের মুক্তির বার্তা এবং স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার স্বাদ। তাঁর দ্রোহচেতনা কবিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজে।
- ক)(1)
'অগ্নিবীণা' কাব্য কত সালে প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
কবি নিজেকে 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার কোন বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার আলোকে বিদ্রোহীসত্তার স্বরূপ উন্মোচন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' বলেছেন। তবে এই ক্লান্তি কোনো পরাজয়ের নয়; সমাজে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল না থামা পর্যন্ত এবং অত্যাচারীর খড়্গ-কৃপাণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তা ফুটে উঠেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ধ্বংসকারী ও চির-বিপ্লবী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরাধীন ভারতবাসীর ওপর ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি বজ্রকণ্ঠে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
উদ্দীপকেও সুকান্ত ভট্টাচার্যের ব্রিটিশবিরোধী অবস্থান, মানুষের মুক্তির বার্তা এবং দ্রোহচেতনার উল্লেখ রয়েছে। কবি যেমন 'বিদ্রোহী' কবিতায় নিপীড়িত জনতার মুক্তির জন্য কলম ধরেছিলেন, উদ্দীপকেও সুকান্ত ভট্টাচার্যের তেমনি শোষণমুক্ত সমাজ ও স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠার দ্রোহ স্পষ্ট। সুতরাং উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার দ্রোহ ও মুক্তির সুরটিই সাদৃশ্যপূর্ণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার আলোকে বিদ্রোহীসত্তার স্বরূপ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম, মানবতার শাশ্বত জয়গান এবং শোষিত মানুষের পূর্ণ মুক্তি অর্জন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহীসত্তা একাধারে সংহারক ও কল্যাণকামী। তিনি একদিকে যেমন মহাপ্রলয়ের নটরাজ, অন্যায়ের বিনাশকারী রুদ্ররূপী; অন্যদিকে নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের শান্তিদাতা ও চির-স্বাধীন মুক্ত সত্তা। উৎপীড়িতের ক্রন্দন থামিয়ে সমাজে সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠাই তাঁর এই বিদ্রোহের একমাত্র লক্ষ্য।
উদ্দীপকেও সুকান্ত ভট্টাচার্যের দ্রোহচেতনা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বাদ এনে দেওয়ার প্রত্যয়ে দীপ্ত।
উভয় সাহিত্যিকের বিদ্রোহীসত্তা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে সামষ্টিক কল্যাণে নিবেদিত। এই বিদ্রোহ শুধু ভাঙার জন্য নয়, বরং শোষক-অত্যাচারীকে চূর্ণ করে মানবিকতা ও সাম্যভিত্তিক নতুন সমাজ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতায় বিদ্রোহীসত্তা হচ্ছে অন্যায় বিনাশের প্রলয়শিখা এবং শোষিতের অধিকার প্রতিষ্ঠার চিরন্তন আশ্রয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও