অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

২০২৩ সালে 'ক' দেশের দামন্তর ছিলো ২১৩। ২০২৪ সালে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ২২৫ হয়। সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস, মজুরি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

  1. ক)

    সূচক সংখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    'সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেন্ট কিনা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সংখ্যা বা সাংখ্যিক পরিমাপের সাহায্যে সময়, স্থান বা অন্য কোনো বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত কোনো অর্থনৈতিক চলকের সামগ্রিক পরিবর্তনের আপেক্ষিক পরিমাপ করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হতে পারে।

    সরকার যখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনুদান বা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করে, তখন জনগণের হাতে অর্থের জোগান তথা সামগ্রিক আয় বেড়ে যায়। আয়ের এই বৃদ্ধি সরাসরি দ্রব্যের সামগ্রিক চাহিদাকে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সেই অনুপাতে সামগ্রিক উৎপাদন বা জোগান বৃদ্ধি না পেলে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে সাধারণ দামস্তর বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ, চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করা হলো:

    আমরা জানি,
    মুদ্রাস্ফীতির হার = {(বর্তমান বছরের দামস্তর - ভিত্তি বছরের দামস্তর) / ভিত্তি বছরের দামস্তর} × ১০০

    উদ্দীপক অনুযায়ী,
    ভিত্তি বছর (২০২৩ সাল)-এর দামস্তর (P₀) = ২১৩
    বর্তমান বছর (২০২৪ সাল)-এর দামস্তর (P₁) = ২২৫

    অতএব, মুদ্রাস্ফীতির হার = {(২২৫ - ২১৩) / ২১৩} × ১০০
    = (১২ / ২১৩) × ১০০
    = ৫.৬৩% (প্রায়)

    সুতরাং, 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৬৩%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আংশিকভাবে ইতিবাচক হলেও সামগ্রিক বিবেচনায় তা এককভাবে সম্পূর্ণ বা যথেষ্ট নয়।

    উদ্দীপক অনুসারে, ২০২৪ সালে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটলে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস (সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি), অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস (বাণিজ্যিক নীতি) এবং মজুরি নিয়ন্ত্রণসহ প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঋণ সংকোচন নীতি কার্যকর হলে বাজারে অর্থের সরবরাহ ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। মজুরি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করলে উৎপাদন ব্যয় ও অতিরিক্ত ভোগব্যয় হ্রাস পায়।

    তবে এই পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখতে আরও কিছু অতিপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে:
    ১. রাজস্ব নীতির সঠিক প্রয়োগ: সরকারের নিজস্ব অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন করা এবং করহার পুনর্বিন্যাস করা হয়নি।
    ২. উৎপাদন ও জোগান বৃদ্ধি: কেবল ঋণ নিয়ন্ত্রণ করলে উৎপাদন খাতের বিনিয়োগে বিঘ্ন ঘটে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পেতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি স্থায়ীভাবে কমাতে হলে দেশীয় উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জোগান বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
    ৩. বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট দমন: মজুরি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ও সিন্ডিকেট কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন।

    অতএব, সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক ও সহায়ক ভূমিকা রাখলেও দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি, জোগান স্বাভাবিকীকরণ এবং রাজস্ব নীতির সমন্বিত প্রয়োগ ব্যতীত তা পুরোপুরি যথেষ্ট নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন