‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' নামক রাষ্ট্রের একটি প্রদেশ আয়তন ও জনসংখ্যায় ছিল বিশাল। একজন প্রশাসকের পক্ষে প্রদেশটির প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ছিল দুরূহ। প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চল সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও পূর্বাশাল ছিল অবহেলিত। পূর্বাঞ্চলের জনগণের দাবির ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ, প্রদেশটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে। এতে পূর্বাঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ অখুশি হয়। জনগণের বিরোধীতার কারণে কর্তৃপক্ষ প্রদেশটিকে পুনরায় একত্রীকরণ করে।

  1. ক)

    কাকে "দেশবন্ধু" উপাধি দেওয়া হয়?

    (1)
  2. খ)

    বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উল্লেখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লেখিত ঘটনা উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে কী প্রভাব বিস্তার করেছিল? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশকে (সি. আর. দাশ) "দেশবন্ধু" উপাধি দেওয়া হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে শারীরিক, মানসিক, সংবেদনশীল বা বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাড়তি সহায়তা বা বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় এমন ব্যক্তিদের বোঝায়। সাধারণ মানুষের তুলনায় তাঁদের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগ বা দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বিশেষ পরিবেশ, উপকরণ ও সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উল্লেখিত ঘটনার সাথে আমাদের পঠিত ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ও ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ'-এর মিল রয়েছে।

    ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন তৎকালীন বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার অবিভক্ত বাংলা প্রদেশকে শাসনকাজের সুবিধার যুক্তি দেখিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশে বিভক্ত করেন। অবহেলিত পূর্ববঙ্গের জনগণ ও মুসলিম সমাজ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করলে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার তা বাতিল (রদ) করে।

    উদ্দীপকে 'X' নামক রাষ্ট্রের আয়তন ও জনসংখ্যার বিশালতার কারণে এক প্রশাসকের জন্য শাসন দুরূহ হওয়া, পূর্বাঞ্চলের অনগ্রসরতা দূর করতে প্রদেশটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা, পূর্বাঞ্চল খুশি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের বিরোধিতা করা এবং শেষ পর্যন্ত বিরোধিতার মুখে পুনরায় একত্রীকরণ করার ঘটনাটি পুরোপুরি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের ঐতিহাসিক পটভূমিকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উল্লেখিত ঘটনা (বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ) উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে গভীর ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেছিল।

    প্রথমত, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্বাঞ্চলের (পূর্ববঙ্গ ও আসাম) সুবিধাবঞ্চিত মুসলিম ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও রাজনৈতিক সচেতনতার সৃষ্টি হয়। ঢাকায় নতুন প্রাদেশিক রাজধানী প্রতিষ্ঠার ফলে অবকাঠামো ও শিক্ষার উন্নয়ন শুরু হয়, যা ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ নিজস্ব স্বাধিকার ও স্বতন্ত্র অস্তিত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শেখে।

    দ্বিতীয়ত, পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত শ্রেণির মানুষ বঙ্গভঙ্গকে 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ' হিসেবে গণ্য করে তীব্র বিরোধিতা করে। তাঁরা স্বদেশী আন্দোলন, বয়কট আন্দোলন এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী তৎপরতা শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারকে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য করে।

    পরিশেষে, ১৯১১ সালে প্রদেশ একত্রীকরণের (বঙ্গভঙ্গ রদ) ফলে পূর্বাঞ্চলের মুসলিম জনগণ গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার শিকার হয়। এর ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের মধ্যে গভীর বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা প্রকারান্তরে পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ বিভাগের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন