কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৭
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
চাইনিজ রেস্তোরায় স্যুপ খাওয়ার সময় জারিন তার কৃষিবিদ মামাকে বলল, এর মধ্যে ব্যাঙের ছাতা, এটা খাওয়া যাবে না। মামা বললেন, এটা ব্যাঙের ছাতা নয়। এটা বহু পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি যা জমি ছাড়াও চাষ করা যায় এবং এ ধরনের সবজির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
রিবন রেটিং কী?
- খ)(2)
বীজ ফসলের জমি নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সবজির উৎপাদন কৌশল সহজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সবজিটির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রিবন রেটিং হলো কাঁচা পাটগাছ থেকে ছাল বা বাকল আলাদা করে নিয়ে বৃত্তাকারে বেঁধে অল্প পানিতে বিশেষ পাত্র বা গর্তে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানোর একটি আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বীজের কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা এবং জাতের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার জন্য বীজ ফসলের জমি নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়। অন্য জাতের ফসলের সাথে পরপরাগায়ন রোধ করার জন্য এবং রোগ-বালাইয়ের সংক্রমণ এড়াতে নির্দিষ্ট জাতের বীজ জমিকে অন্যান্য অনুরূপ ফসল থেকে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট দূরত্বে (আইসোলেশন দূরত্ব) স্থাপন করা আবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জমি ছাড়া উৎপাদিত পুষ্টিগুণসম্পন্ন সবজিটি হলো মাশরুম।
মাশরুমের উৎপাদন কৌশল অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক। এর জন্য চাষযোগ্য কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের ভেতরে তাক তৈরি করে বা ঝুলিয়ে রেখে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এর চাষ করা যায়। প্রধানত কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ, খড় এবং সামান্য চুন মিশিয়ে আর্দ্রতা বজায় রেখে পলিথিন প্যাকেটে স্পন প্যাকেট বা সাবস্ট্রেট তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে অটোক্লেভ বা সিদ্ধ করে প্যাকেটগুলোকে জীবাণুমুক্ত করা হয় এবং মাশরুমের বীজ (স্পন) মেশানো হয়। বীজ বপনের পর প্যাকেটগুলো অন্ধকার ঘরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় রেখে মাইসেলিয়াম ছড়াতে দেওয়া হয়। মাইসেলিয়াম ছড়িয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করলে প্যাকেট কেটে আলো-বাতাস ও পানির আর্দ্রতাযুক্ত মাশরুম চাষের ঘরে রাখা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই সেখান থেকে পিনহেড বের হয়ে পূর্ণাঙ্গ মাশরুমে পরিণত হয়। এভাবে অতি সহজে ও সীমিত স্থানে মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সবজিটি অর্থাৎ মাশরুমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে এর অনন্য পুষ্টিগুণ, ঔষধি বৈশিষ্ট্য ও সহজলভ্যতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
প্রথমত, মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রথম শ্রেণির উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও ভিটামিন ডি) এবং খনিজ পদার্থ (যেমন- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, পটাশিয়াম) রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মাশরুমে ফ্যাট ও শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাদ্য। এতে উপস্থিত পলিস্যাকারাইড ও বিটা-গ্লুকান মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত, আধুনিক যুগে মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ফাস্টফুড, স্যুপ, চাইনিজ ও অন্যান্য খাবারে মাশরুমের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। নিরামিষাশীদের জন্য এটি মাংসের চমৎকার বিকল্প প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, বহুমুখী পুষ্টি উপাদান, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং খাদ্য তালিকায় বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ থাকায় দিন দিন মাশরুমের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও