অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল দেশ। এদেশের অর্থনীতি যে সব ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠেছে সেগুলো হলো- শিক্ষা, যাতায়াত ও যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, ডাক, জনস্বাস্থ্য, বাসস্থান, তার পরিবার কল্যাণ, সেতু, বিদ্যুৎ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা, শক্তি সম্পদ, পানি সরবরাহ প্রভৃতি। দেশের উন্নয়নে এ সকল উপাদানের উত্তম ব্যবহার প্রভৃতি। দেশের উন্নয়নে এ সকল উপাদানের উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।
- ক)(1)
সামাজিক পরিবেশ কী?
- খ)(2)
প্রাকৃতিক পরিবেশ কি উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত?
- গ)(3)
উদ্দীপকে থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর তুলনামূলক গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, প্রাকৃতিক পরিবেশ উৎপাদনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ও প্রাথমিক উপাদানগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকেই আসে। প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন—উর্বর মৃত্তিকা, অনুকূল জলবায়ু, নদ-নদী, খনিজ ও বনজ সম্পদ ইত্যাদি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি। উদাহরণস্বরূপ, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমি কৃষিজ উৎপাদন বাড়ায় এবং খনিজ সম্পদ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ উৎপাদনের অনুকূল না হলে উৎপাদন বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে একটি দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোকে প্রধানত সামাজিক উপাদান (সামাজিক অবকাঠামো) এবং অর্থনৈতিক উপাদান (অর্থনৈতিক অবকাঠামো)—এই দুই ভাগে চিহ্নিত করা যায়:
১. সামাজিক উপাদানসমূহ:
- শিক্ষা
- প্রশিক্ষণ
- জনস্বাস্থ্য
- বাসস্থান
- পরিবার কল্যাণ
- ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা
২. অর্থনৈতিক উপাদানসমূহ:
- যাতায়াত ও যোগাযোগ
- ডাক ও তার
- সেতু
- বিদ্যুৎ
- শক্তি সম্পদ
- পানি সরবরাহ
এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এরা পরস্পরের পরিপূরক। এদের তুলনামূলক গুরুত্ব নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক উপাদানের ভূমিকা:
যাতায়াত ও যোগাযোগ, সেতু, বিদ্যুৎ, শক্তি সম্পদ, পানি সরবরাহ এবং ডাক ও তার হলো অর্থনীতির ভৌত বা প্রত্যক্ষ অবকাঠামো। এগুলো ছাড়া শিল্প কারখানা স্থাপন, কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ অসম্ভব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সরাসরি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বাড়াতে কাজ করে।২. সামাজিক উপাদানের ভূমিকা:
শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও বাসস্থান মূলত দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে জড়িত। একটি দেশের অর্থনৈতিক উপাদান যত সমৃদ্ধই হোক না কেন, দক্ষ ও সুস্থ মানবসম্পদ না থাকলে তার সদ্ব্যবহার সম্ভব নয়। শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করে এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।৩. তুলনামূলক গুরুত্ব ও পরিপূরকতা:
অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই দুই ধরনের উপাদান একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। যেমন—উন্নত যোগাযোগ বা শিল্পকারখানা (অর্থনৈতিক উপাদান) পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক (সামাজিক উপাদান)। আবার দক্ষ জনশক্তি থাকলেও যদি বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকে, তবে তারা অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।পরিশেষে বলা যায়, কেবল অর্থনৈতিক উপাদান দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় উপাদানের সুষম ও সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও