‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব M.R ছিলেন একজন সম্মোহনী নেতা। তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে তার অঞ্চলকে স্বাধীন করতে চেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে তাকে বারবার কারাবরণও করতে হয়। সর্বশেষ শ্রেণী জাতির উদ্দেশ্যে ৭ই মার্চের এক ঐতিহাসিক ভাষনের মাধ্যমে তার অঞ্চলকে স্বাধীন করতে সক্ষম হন।

  1. ক)

    কাকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    মাওলানা ভাসানীকে বাংলার মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন রাজনৈতিক নেতার সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নেতার রাজনৈতিক অবদান আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নওয়াব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি ও নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। নিপীড়িত বা মজলুম জনগোষ্ঠীর পক্ষে আপসহীন নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই জনগণ তাঁকে ভালোবেসে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি আমার পাঠ্যবইয়ের মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সম্পৃক্ত।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, যাঁর অসাধারণ সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতিকে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করেছিল। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বারবার কারাবরণ করেন এবং তাঁর আহ্বানেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

    উদ্দীপকের 'জনাব M.R' একজন সম্মোহনী নেতা ছিলেন, যিনি সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনের এই ঐতিহাসিক দিকগুলোর সাথে উদ্দীপকের জনাব M.R-এর চরিত্রের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। অতএব, উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও অনন্য। তাঁর প্রধান রাজনৈতিক অবদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    ১. ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বঙ্গবন্ধু সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ধর্মঘট পালনকালে তিনি গ্রেফতার হন।

    ২. আওয়ামী লীগ গঠন ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম কারিগর ছিলেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ৩. ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি (১৯৬৬): ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন, যা স্বাধীনতার মূল ভিত্তিমূল তৈরি করে।

    ৪. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তুমুল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে তিনি মুক্তি পান এবং জনগণ কর্তৃক 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

    ৫. সত্তরের নির্বাচন ও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঘোষণা করেন—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম", যা মুক্তিকামী জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে।

    পরিশেষে, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন