DU • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ ইউনিট (কলা) ভর্তি পরীক্ষা ২০২৪-২০২৫

প্রশ্ন ও সমাধান

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:যখন আমরা রাজকন্যা, রাজবধূরূপে প্রাসাদে থাকি, তখনও প্রভু-গৃহে থাকি। আবার যখন ঐ প্রাসাদতুল্য ত্রিতল অট্টালিকা ভূমিকম্পে চূর্ণ হয়, সোপান অতিক্রম করিয়া অবতরণ কালে আমাদের মাথা ভাঙ্গে, হাত পা ভাঙ্গে রক্তাক্ত কলেবরে হতজ্ঞান প্রায় অবস্থায় গোশালায় গিয়া আশ্রয় লই, তখনও অভিভাবকদের বাটীতে থাকি!!অথবা গৃহস্থের বৌ-ঝি রূপে প্রকাণ্ড আটচালায় বাস করিলেও প্রভুর আলয়ে থাকি; আর যখন চৈত্র মাসে ঘোর অমানিশীথে প্রভুর বাটীতে দুষ্টুলোক কর্তৃক লঙ্কাকাণ্ডের অভিনয় হয়, সব জিনিসপত্রসহ ঘরগুলি দাউদাউ করিয়া জ্বলিতে থাকে, আমরা - একবসনে প্রাণটি হাতে করিয়া কোনোমতে দৌড়াইয়া গিয়া দূরস্থিত একটা কুলগাছতলে দাঁড়াইয়া কাঁপিতে থাকি, তখনও - অভিভাবকের বাটীতে থাকি!!!

(3.1) 'প্রভু-গৃহ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? দুর্যোগ-দুর্ঘটনায়ও নারী প্রভু-গৃহে থাকতে বাধ্য হয় কেন?

(3.2) 'লঙ্কাকাণ্ডে'র কথা কোন কাহিনিতে পাওয়া যায়? কীভাবে এই লঙ্কাকাণ্ড সংঘটিত হয়?

(3.3) 'উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, অর্থদ্যোতকতা আছে।' ব্যাখ্যা কর এবং অনুচ্ছেদ থেকে উপসর্গযোগে গঠিত দুটি শব্দ লেখ।

(3.4) শব্দার্থ লেখ: সোপান, কলেবর, অমানিশীথ, বসন।

(3.5) 'গৃহ' শব্দের চারটি প্রতিশব্দ লেখ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(3.1) ‘প্রভু-গৃহ’ বলতে নারীর পিতা, স্বামী বা অভিভাবকের গৃহকে বোঝানো হয়েছে, যার মালিকানা পুরুষের। নারী রাজবধূ হয়ে প্রাসাদে থাকুক বা গৃহস্থের বউ-ঝি হয়ে আটচালায়, সর্বত্র সে অন্যের আশ্রিত। নারীর নিজের কোনো গৃহ বা সম্পত্তি নেই। অর্থনৈতিক পরনির্ভরতা, সামাজিক বিধিনিষেধ ও শিক্ষার অভাবে সে স্বাধীনভাবে আশ্রয় ঠিক করতে পারে না। তাই ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগেও নারী প্রভু-গৃহে, অর্থাৎ অভিভাবকের ছায়াতেই থাকতে বাধ্য হয়।

(3.2) ‘লঙ্কাকাণ্ড’-এর কথা রামায়ণের কাহিনিতে পাওয়া যায়। রাবণ সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে গেলে রামের দূত হনুমান সীতার সন্ধানে লঙ্কায় যান। রাবণের লোকেরা তাঁকে বন্দি করে এবং শাস্তি হিসেবে তাঁর লেজে কাপড় জড়িয়ে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত লেজ নিয়ে হনুমান এক ঘর থেকে আরেক ঘরে লাফিয়ে আগুন ছড়িয়ে দেন এবং সোনার লঙ্কা ছারখার হয়ে যায়। এভাবেই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।

(3.3) উপসর্গ হলো এমন অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা ধাতু বা শব্দের আগে বসে। উপসর্গের নিজস্ব স্বাধীন অর্থ নেই, তাই তাকে অর্থবাচক বলা যায় না। কিন্তু শব্দের আগে বসে সে শব্দের অর্থ প্রসারিত, সংকুচিত বা পরিবর্তিত করে এবং নতুন অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করে, এ কারণে উপসর্গ অর্থদ্যোতক। যেমন ‘হার’ শব্দের আগে ‘প্র’ বসে ‘প্রহার’ (আঘাত), ‘আ’ বসে ‘আহার’ (খাওয়া), ‘বি’ বসে ‘বিহার’ (ভ্রমণ)। উপসর্গ আলাদাভাবে এসব অর্থ প্রকাশ করে না, শুধু দ্যোতনা জাগায়।
অনুচ্ছেদ থেকে উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: অতিক্রম (অতি + ক্রম), অবতরণ (অব + তরণ)। (আরও: অভিনয়, অভিভাবক, আশ্রয়)

(3.4) সোপান: সিঁড়ি
কলেবর: দেহ, শরীর
অমানিশীথ: অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার রাত
বসন: পোশাক, কাপড়

(3.5) ‘গৃহ’ শব্দের চারটি প্রতিশব্দ: ঘর, বাড়ি, আলয়, নিকেতন। (আরও: আবাস, ভবন, নিবাস)

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন