অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রদীপদের সংসারে মোট ৭ জন সদস্য। অভাবের সংসার। প্রদীপ ও তার মা কোনো একটি গ্রামের N.G.O থেকে ঋণ নিয়ে হস্তচালিত তাঁতের লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা তৈরি করেন। এ কাজে তাদের দাদা-দাদিরাও সাহায্য করেন। কিন্তু হস্তচালিত হওয়ায় তাদের উৎপাদন কম ও সময়সাপেক্ষ। তাই প্রদীপ আরও কিছু ঋণ নিয়ে কয়েকটি মেশিন কিনে শাড়ি, লঙ্গি, গামছার পাশাপাশি কিছু হোসিয়ারি দ্রব্য তৈরি করে। ফলে তার আয় যেমন বাড়ে, সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, দারিদ্র্য কমে তেমনি দেশেরও উন্নতি হয়।

  1. ক)

    মাঝারি শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্য কী?

    (2)
  3. গ)

    প্রদীপদের শিল্প কী ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনধিক ৫০ কোটি টাকা কিংবা ১২১ জন থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকলে তাকে মাঝারি শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো মূলধনের পরিমাণ, শ্রমিকের ধরন ও প্রযুক্তিগত ব্যবহারে। কুটির শিল্প মূলত পরিবারের সদস্যদের দ্বারা স্বল্প মূলধনে এবং হস্তচালিত বা সাধারণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্পে কুটির শিল্পের চেয়ে বেশি মূলধন বিনিয়োগ করা হয়, বেতনভুক্ত বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ করা হয় এবং বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে উৎপাদন পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদীপদের বর্তমান শিল্পটি হলো 'ক্ষুদ্র শিল্প'।

    প্রথমে প্রদীপ ও তার পরিবার হস্তচালিত তাঁতের মাধ্যমে কাজ করতো, যা ছিল কুটির শিল্প। কিন্তু পরবর্তীতে হস্তচালিত উৎপাদন কম ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় প্রদীপ অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে কয়েকটি আধুনিক মেশিন বা বিদ্যুৎচালিত তাঁত স্থাপন করে এবং শাড়ি-লুঙ্গির পাশাপাশি হোসিয়ারি দ্রব্য উৎপাদন শুরু করে। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হয়, পরিবারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ে এবং উৎপাদনের পরিধি বৃদ্ধি পায়। জাতীয় শিল্পনীতির মানদণ্ড অনুযায়ী কুটির শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে যান্ত্রিক শক্তির ব্যবহার ও বর্ধিত মূলধন নিয়ে গড়ে ওঠা এমন উৎপাদনমুখী কার্যক্রম ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তাদের রূপান্তরিত শিল্পটি একটি ক্ষুদ্র শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশে স্বল্প পুঁজিতে বিপুল মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে এ শিল্প অনন্য ভূমিকা পালন করে।
    ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বৃদ্ধি: উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রদীপের উদ্যোগের ফলে তাদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্য কমেছে। এটি তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের আয়ের পথ সুগম করে দারিদ্র্য নিরসনে ভূমিকা রাখে।
    ৩. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: দেশীয় কাঁচামাল ও স্থানীয় শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই শিল্প জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখে।
    ৪. জাতীয় উৎপাদন ও জিডিপিতে অবদান: বস্ত্র ও হোসিয়ারি জাতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমে এবং দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
    ৫. অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র শিল্পগুলো আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে এবং সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন