জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন— “আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B-লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অণু প্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
- ক)(1)
অ্যান্ড্রুইজম কী?
- খ)(2)
নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুর চিত্রসহ গঠন বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
দেহ প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত অণু কিভাবে অণুজীব ধ্বংস করে— তা বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পুরুষালী বৈশিষ্ট্যহীন পুরুষের মধ্যে নারীদের মতো আচরণ ও স্বভাবের প্রকাশ পাওয়াকে অ্যান্ড্রুইজম (Andruism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিউট্রোফিল হলো এক ধরনের দানাদার শ্বেত রক্তকণিকা। দেহে কোনো রোগজীবাণু বা বহিরাগত ক্ষতিকর কণা প্রবেশ করলে নিউট্রোফিল অ্যামিবয়েড চলনের মাধ্যমে জীবাণুর কাছে পৌঁছায় এবং ক্ষণপদ সৃষ্টি করে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সেই জীবাণুকে ভক্ষণ ও লাইসোজোমাল এনজাইম দ্বারা ধ্বংস করে। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার কারণেই নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবিউলিন)।
অ্যান্টিবডির গঠন:
একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি দেখতে ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো এবং এটি ৪টি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত—
১. ভারী শৃঙ্খল (Heavy chains): এতে দুটি দীর্ঘ ও অভিন্ন ভারী শৃঙ্খল (H-chain) থাকে, যার প্রতিটিতে প্রায় ৪৪০টি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে।
২. হালকা শৃঙ্খল (Light chains): এতে দুটি অপেক্ষাকৃত খাটো ও অভিন্ন হালকা শৃঙ্খল (L-chain) থাকে, যার প্রতিটিতে প্রায় ২২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে।
৩. ডাইসালফাইড বন্ধন: পলিপেপটাইড শৃঙ্খলগুলো পরস্পরের সাথে ডাইসালফাইড বন্ড (-S-S-) দ্বারা দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে।
৪. পরিবর্তনশীল ও স্থির অঞ্চল: প্রতিটি শৃঙ্খলের প্রান্তীয় অংশে থাকে পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region বা V-অঞ্চল) যা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে আবদ্ধ হয় (প্যারাটোপ গঠন করে)। অপর অংশটি হলো স্থির অঞ্চল (Constant region বা C-অঞ্চল)।
৫. কব্জা অঞ্চল (Hinge region): Y-এর বাহু দুটির সংযোগস্থলকে কব্জা বা হিঞ্জ অঞ্চল বলে, যা অ্যান্টিবডিকে নমনীয়তা প্রদান করে।(পরীক্ষায় একটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে যাতে ভারী শৃঙ্খল, হালকা শৃঙ্খল, পরিবর্তনশীল অঞ্চল, স্থির অঞ্চল, ডাইসালফাইড বন্ধন ও অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট প্রদর্শিত থাকবে।)
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অ্যান্টিবডি মানবদেহের অর্জিত প্রতিরক্ষার তৃতীয় স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এটি বিভিন্ন কৌশলে অণুজীব ও ক্ষতিকর অ্যান্টিজেন ধ্বংস করে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অণুজীবগুলোকে দলবদ্ধ বা পুঞ্জীভূত করে ফেলে, ফলে জীবাণু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং ফ্যাগোসাইট কোষের জন্য এদের ভক্ষণ করা সহজ হয়।
২. প্রিসিপিটেশন (Precipitation): দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনের সাথে অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া করে এদের অদ্রবণীয় অধঃক্ষেপে পরিণত করে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
৩. প্রশমন বা নিউট্রিলাইজেশন (Neutralization): অ্যান্টিবডি জীবাণু থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত টক্সিন বা ভাইরাসের উপরিভাগের রিসেপ্টর ঢেকে দিয়ে তাদের কার্যকারিতা এবং সংক্রমণ ক্ষমতা নষ্ট করে।
৪. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর বহিরাবরণকে আবৃত করে ফেলে, যা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়াকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করে সহজে জীবাণু ধ্বংসে সাহায্য করে।
৫. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ (Complement Activation): অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন জটিল গঠনের মাধ্যমে রক্তের কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা মেমব্রেন অ্যাটাক কমপ্লেক্স (MAC) গঠন করে জীবাণুর কোষপ্রাচীর বিদীর্ণ করে ধ্বংস করে (লাইসিস)।সুতরাং, অ্যান্টিবডি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় কৌশলেই মানবদেহে অনুপ্রবেশকারী অণুজীব ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও