ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মুন এবং রবি সাদ ট্রেডার্স নামে একটি অংশীদারি ব্যবসায় চালান। রাফি নামে তাদের বন্ধু প্রায়ই তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আসে। তাকেও ব্যবসায়টির একজন অংশীদার বলে মনে হয়। মাঝে মাঝে সে নিজেকে একজন অংশীদার বলে পরিচয় দেয়। কিছুদিন পরে আশিক ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাদ ট্রেডার্সের কাছে ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। রাফি টাকাটা নিয়েছিল। এটা সত্যি ছিল কিন্তু সাদ ট্রেডার্স সে অর্থ দিতে নারাজ।

  1. ক)

    অংশীদারি কারবারের মূল ভিত্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারদের অসীম দায় বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    সাদ ট্রেডার্সে রাফি কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আশিক ট্রেডার্স কি আইনগতভাবে অর্থ ফেরত পাবে? কীভাবে পেতে পারে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চুক্তি বা চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কই হলো অংশীদারি কারবারের মূল ভিত্তি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারদের অসীম দায় বলতে বোঝায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো দেনা পরিশোধের জন্য অংশীদারদের ব্যক্তিগত দায় শুধু ব্যবসায় নিয়োজিত মূলধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

    ব্যবসায়ের সম্পদ থেকে পাওনাদারের সম্পূর্ণ দাবি মেটানো সম্ভব না হলে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও সেই দেনা পরিশোধ করতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাদ ট্রেডার্সে রাফি হলো 'প্রতিবন্ধক অংশীদার' (Partner by Estoppel)।

    যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও কথায়, আচরণে বা নিজেকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি জেনেও তা মৌনভাবে মেনে নেয় বা অস্বীকার না করে, তবে তাকে প্রতিবন্ধক অংশীদার বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফি সাদ ট্রেডার্সের প্রকৃত অংশীদার নয়, কিন্তু সে প্রায়ই প্রতিষ্ঠানে আসত, নিজেকে অংশীদার বলে মনে করাত এবং মাঝে মাঝে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিত। মুন ও রবি এতে কোনো আপত্তি জানায়নি। তাই রাফি সাদ ট্রেডার্সের একজন প্রতিবন্ধক অংশীদার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আশিক ট্রেডার্স আইনগতভাবে অর্থ ফেরত পাবে।

    অংশীদারি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে নিজেকে জাহির করে বা তৃতীয় পক্ষের কাছে তাকে অংশীদার বলে বিশ্বাস করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয় এবং তৃতীয় পক্ষ সরল বিশ্বাসে তাকে অংশীদার মনে করে অর্থ লেনদেন করে, তবে সেই ঋণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ক্ষেত্রবিশেষে উক্ত প্রতিষ্ঠান দায়বদ্ধ থাকে। প্রতিষ্ঠান যদি পূর্বে তাকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপনে বাধা না দিয়ে থাকে, তবে আইনগতভাবে 'প্রতিবন্ধকতার নীতি' (Doctrine of Estoppel) কার্যকর হয়।

    উদ্দীপকে রাফি সাদ ট্রেডার্সের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিত এবং আশিক ট্রেডার্স তাকে উক্ত কারবারের অংশীদার মনে করেই ৩০,০০০ টাকা ঋণ দিয়েছিল। সাদ ট্রেডার্স রাফির এই পরিচয় সম্পর্কে অবগত থেকেও তাকে নিষেধ বা সতর্ক করেনি। সুতরাং, আশিক ট্রেডার্স অর্থ আদায়ের জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। আশিক ট্রেডার্স রাফির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের করে এই অর্থ ফেরত পেতে পারে, কারণ রাফি নিজেকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে ঋণ নিয়েছিল। একইসাথে সাদ ট্রেডার্স যদি জেনেশুনে রাফিকে এমন উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে থাকে, তবে প্রতিষ্ঠানের ওপরও দায় বর্তায়। অতএব, আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আশিক ট্রেডার্স রাফি তথা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ ফেরত পেতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন