সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটির 'বুড়িঘাট' যুদ্ধের শত্রুপক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি চলে আসে। সহযোদ্ধাদের অপ্রস্তুতির বিষয়টি টের পেয়ে মুন্সি আবদুর রউফ মেশিনগানের গুলি চালিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে সহযোদ্ধারা প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাক্কালে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে শহিদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। পরাস্ত হয় শত্রুপক্ষ।

  1. ক)

    পারফেক্ট স্কাউন্ডেল বলা হয়েছে কাকে?

    (1)
  2. খ)

    'ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব'-উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে যুদ্ধক্ষেত্রে মোহনলালের ভূমিকার তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকে বিজয়ের বারতা থাকলেও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পরাজয় ঘটেছে দেশপ্রেমিক শক্তির।”-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমিচাঁদকে 'পারফেক্ট স্কাউন্ডেল' বা পরম ধূর্ত বলা হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, ভেতরের কোনো আপনজন বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে বাইরের শত্রুর পক্ষে যেকোনো চরম ক্ষতি সাধন করা অতি সহজ হয়ে যায়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের আপন খালা ঘসেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। ঘরের মানুষ যখন বিশ্বাস ভঙ্গ করে শত্রুর দোসর হয়, তখন শত্রুর পক্ষে সাম্রাজ্য ধ্বংস করা সহজ হয়ে ওঠে—নবাব এই নির্মম সত্যটি উপলব্ধি করেই আক্ষেপের সাথে কথাটি বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে যুদ্ধক্ষেত্রে দেশপ্রেমিক মোহনলালের ভূমিকার আত্মত্যাগ, অসম সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    পলাশীর প্রান্তরে যখন মীরজাফর ও অন্যান্য সেনাপতিরা নবাবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল, তখন মোহনলাল ও মীরমদন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বীরদর্পে ইংরেজদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন। মোহনলাল নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নবাব ও দেশের প্রতি অবিচল বিশ্বস্ততা দেখিয়ে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

    উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বুড়িঘাটে সহযোদ্ধাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় শত্রুর আকস্মিক হামলার মুখে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ একাই মেশিনগান চালিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করেন এবং সহযোদ্ধাদের রক্ষা করে নিজে শহিদ হন। দেশের স্বার্থে আত্মবিসর্জন এবং রণাঙ্গনে অসীম সাহসের সাথে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেওয়ার দিক থেকে মুন্সি আব্দুর রউফ ও মোহনলালের চরিত্র একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'উদ্দীপকে বিজয়ের বারতা থাকলেও সিরাজউদ্দৌলা নাটকে পরাজয় ঘটেছে দেশপ্রেমিক শক্তির'—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটির বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ জীবন দিয়ে সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষ পরাস্ত হয়েছিল। ফলে সেখানে চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক মুক্তিবাহিনীর চূড়ান্ত জয় বা বিজয়ের বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।

    অপরদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশীর যুদ্ধে মীরমদন, মোহনলালের মতো বীরদের বীরোচিত লড়াই সত্ত্বেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার কূটকৌশলের কারণে দেশপ্রেমিক নবাব বাহিনী ইংরেজদের হাতে পর্যুদস্ত হয়। এর ফলে বাংলা হারায় তার স্বাধীনতা এবং দেশপ্রেমিক শক্তির বেদনাদায়ক পরাজয় ঘটে।

    অতএব, উদ্দীপকটি আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করার সফল বিজয়ের চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু নাটকে স্বজাতির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে দেশপ্রেমিকদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সত্ত্বেও পরাজয়ের করুণ পরিণতি ঘটে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন