পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রুনা লায়লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। তিনি একটি রাষ্ট্রের ইতিহাস পাঠ করে জানতে পারেন যে, রাষ্ট্রটির প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল একটি অঞ্চল থেকে প্রায় সবগুলি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ক)(1)
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
নির্বাচন কমিশন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত কোনো নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন বস্তুতপক্ষে রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্বাচন কমিশন হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং ফলাফল প্রকাশ করা এ কমিশনের অন্যতম প্রধান কাজ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান অংশে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো আসনে তারা জয় পায়নি, আবার পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো দলও পূর্ব পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্য আসন পায়নি।
উদ্দীপকে রুনা লায়লা একটি রাষ্ট্রের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি অঞ্চল থেকে প্রায় সব আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে বিবরণ পাঠ করেছেন, তা হুবহু ১৯৭০ সালে অখণ্ড পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক অথচ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে অখণ্ড পাকিস্তানের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটিয়েছিল— উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ দফার ভিত্তিতে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট লাভ করে সমগ্র পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনৈতিক মহল (বিশেষ করে জুলফিকার আলী ভুট্টো) বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে এবং ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর বর্বরোচিত 'অপারেশন সার্চলাইট' চালিয়ে গণহত্যা শুরু করে। এর ফলে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন অনিবার্যভাবে স্বাধীনতাসংগ্রামে রূপ নেয় এবং ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অখণ্ড পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফল মেনে না নেওয়ার মাধ্যমেই কার্যত অখণ্ড পাকিস্তানের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটেছিল এবং এই নির্বাচনই ছিল পাকিস্তানের ভাঙনের মূল অনুঘটক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও