অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সরকার ইচ্ছে করলে দেশ ও দেশের বাহির থেকে ঋণ নিতে পারে। দেশের বাহির থেকে ঋণ নিতে হলে বিভিন্ন শর্ত, সময়কাল, ঋণ-পরিশোধ প্রভৃতি বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হয়। তবে সরকার বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারলেও আজাদ সাহেব কেবলমাত্র দেশেই ঋণ নিতে পারেন।

  1. ক)

    আয়কর কী?

    (1)
  2. খ)

    ফি ও কর এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সরকার যে অসুবিধার সম্মুখীন হয় উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আজাদ সাহেব যে উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে তার সাথে সরকারের গৃহীত ঋণের পার্থক্য উদ্দীপকের ভিত্তিতে আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়ের ওপর আইন অনুযায়ী সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করতে হয়, তাকে আয়কর (Income Tax) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফি এবং করের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো প্রত্যক্ষ সুবিধা বা প্রতিদানের উপস্থিতি।

    কর হলো সরকারের প্রতি আরোপিত একটি বাধ্যতামূলক দেয়, যার বিনিময়ে করদাতা কোনো প্রত্যক্ষ বা বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারেন না। পক্ষান্তরে, ফি হলো এমন এক ধরনের অর্থ যা সরকার বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিশেষ সেবা গ্রহণের বিনিময়ে সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করে থাকে। যেমন: আদালতের কোর্ট ফি, শিক্ষা ফি ইত্যাদি। এ কারণেই ফি ও কর এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, তা নিম্নরূপ:

    ১. কঠিন শর্তাবলি: বিদেশি দাতা দেশ বা সংস্থাগুলো ঋণ প্রদানের সাথে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কঠিন শর্ত আরোপ করে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপ তৈরি করতে পারে। উদ্দীপকেও বিভিন্ন শর্তের বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে।
    ২. সুদ ও পরিশোধের চাপ: বৈদেশিক ঋণ বৈদেশিক মুদ্রায় সুদসহ পরিশোধ করতে হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে।
    ৩. বিনিময় হারের ঝুঁকি: দেশীয় মুদ্রার মান কমে গেলে ঋণের দায় বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
    ৪. অর্থনৈতিক পরাধীনতা: অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণের ফলে সংশ্লিষ্ট দাতা দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নির্ভরতা সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আজাদ সাহেব কেবলমাত্র দেশীয় উৎস (যেমন: আত্মীয়স্বজন, ব্যাংক বা মহাজন) থেকে ঋণ গ্রহণ করেন, যা ব্যক্তিগত ঋণের উদাহরণ। অন্যদিকে সরকার দেশ ও দেশের বাইরে উভয় উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে পারে, যা সরকারি ঋণের অন্তর্ভুক্ত। আজাদ সাহেবের ব্যক্তিগত ঋণ ও সরকারের গৃহীত ঋণের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    ১. ঋণের উদ্দেশ্য: আজাদ সাহেব ব্যক্তিগত প্রয়োজন, পরিবারের ভরণপোষণ বা ব্যবসায়িক মুনাফার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে সরকার দেশরক্ষা, সামাজিক কল্যাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে ঋণ নেয়।
    ২. ঋণের উৎস: আজাদ সাহেব কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারেন। কিন্তু সরকারের উৎস অনেক ব্যাপক; সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন: বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) বা বিদেশি সরকার থেকে ঋণ নিতে পারে।
    ৩. ঋণের শর্ত ও বাধ্যবাধকতা: আজাদ সাহেব ঋণ আদায়ে বাধ্য করতে পারেন না, তাঁকে আর্থিক জামানত দিতে হয়। সরকার সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে বন্ড বিক্রি বা প্রয়োজনে নতুন মুদ্রা ছাপিয়েও দায় পরিশোধ করতে পারে, তবে বৈদেশিক ঋণে কঠোর শর্ত মানতে হয়।
    ৪. পরিধি ও প্রভাব: আজাদ সাহেবের ঋণের প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সরকারের গৃহীত ঋণের প্রভাব সমগ্র দেশের অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়ে।

    সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, ব্যক্তিগত ঋণ ও সরকারি ঋণের মধ্যে উদ্দেশ্য, উৎস ও প্রভাবের ক্ষেত্রে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন