বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
8.
(ক) পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের উপর একটি দিনলিপি লেখো।অথবা,(খ) “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি ভাষণ প্রস্তুত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের উপর একটি দিনলিপি:
১৪ এপ্রিল, ২০২৪
রাত ১০:৩০ মিনিট
ঢাকা।
আজ পহেলা বৈশাখ—বাঙালির প্রাণের উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি নানা রঙে ও আনন্দে উদ্যাপিত হলো। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই নতুন পোশাক পরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিই। সেখানে শিল্পীদের সুরেলা কণ্ঠে ভেসে আসা রবীন্দ্রসংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’ মনকে এক অদ্ভুত আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য় যোগ দিই। বিভিন্ন রঙের মুখোশ, লোকজ মোটিফ আর ঢাক-ঢোলের শব্দে পুরো এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। দুপুরে পরিবারের সবার সাথে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ খাওয়া হয়। বিকেলে বন্ধুদের সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরের বৈশাখী মেলায় ঘুরে বেড়িয়েছি। দিনটি নানা আনন্দ ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে শেষ হলো। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি—এই শুভকামনায় আজকের দিনলিপি শেষ করছি।
অথবা,
(খ) “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা সভার ভাষণ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
মাননীয় সভাপতি, প্রধান অতিথি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার সহপাঠী বন্ধুগণ,
সবাইকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল দিন—মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। তিরিশ লক্ষ শহিদের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, লাল-সবুজের একটি পতাকা।
উপস্থিত সুধীবৃন্দ,
বিজয় দিবস শুধু উৎসব ও উদ্যাপনের দিন নয়, এটি আত্মোপলব্ধি ও দেশপ্রেমের শপথ গ্রহণের দিন। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। আজ আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হয়ে গেলেও আমরা কি শহিদদের সেই স্বপ্ন সম্পূর্ণরূপে পূরণ করতে পেরেছি?
প্রিয় উপস্থিতি,
আমাদের দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতি, নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই এই অসমাপ্ত লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। মেধা ও সততার মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব আমাদের কাঁধেই।
আসুন, আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা শপথ গ্রহণ করি—ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে স্থান দেব এবং শহিদদের স্বপ্নের উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও