পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'খ' সালে কোন ভারত শাসন আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'ক' ও 'খ' সালের ভারত শাসন আইনের মধ্যে কোনটি অপেক্ষাকৃত ভালো? মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে এমন এক রাজনৈতিক ও দার্শনিক ধারণাকে বোঝায়, যার মূল বক্তব্য হলো ভারতবর্ষে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র জাতি। ১৯৩৯ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম এই তত্ত্বটি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এ তত্ত্বে বলা হয় যে, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-আচরণ, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মৌলিক পার্থক্যের কারণে হিন্দু ও মুসলমান কখনোই একটি অভিন্ন জাতি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে না। ফলে মুসলমানদের জন্য নিজস্ব আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, যা পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'খ' সালে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ছকে 'খ' সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং ভারত থেকে বার্মাকে পৃথকীকরণ। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঐতিহাসিক ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মূল ভিত্তি।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলো এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি 'সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র' গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ১৯১৯ সালের আইনের মাধ্যমে প্রদেশে চালু থাকা ব্যর্থ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে প্রদেশগুলোতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। একই আইনের মাধ্যমে বার্মাকে (বর্তমান মিয়ানমার) ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন বা পৃথক করা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে 'খ' সালে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' সালের আইনটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন এবং 'খ' সালের আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এই দুই আইনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি অপেক্ষাকৃত ভালো ও অধিকতর উন্নত।
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন ও ভারতীয় হাই কমিশনারের পদ সৃষ্টি করা হলেও প্রদেশে 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এতে ক্ষমতা সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত—এই দুই ভাগে ভাগ করায় দায়িত্বহীনতা তৈরি হয় এবং প্রাদেশিক প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়ে। ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা এ আইনে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়।
অন্যদিকে, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশ থেকে ত্রুটিপূর্ণ দ্বৈত শাসন প্রত্যাহার করে কার্যকর 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' প্রবর্তন করা হয়। প্রদেশগুলোতে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে শাসনভার ন্যস্ত করা হয়, যা ভারতীয়দের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব, কেন্দ্রে ক্ষমতা বণ্টন নীতি (যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও যৌথ তালিকা) প্রণয়ন, ফেডারেল আদালত প্রতিষ্ঠা এবং বার্মাকে পৃথকীকরণের মতো দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এ আইনের মাধ্যমেই পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে।
অতএব, ভারতীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অগ্রগতির বিচারে ১৯১৯ সালের আইনের চেয়ে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি নিঃসন্দেহে অপেক্ষাকৃত ভালো ও অগ্রগামী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও