জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
এক্সপ্লান্ট কী?
- খ)(2)
টিস্যু কালচারের মাধ্যমে কি রোগমুক্ত চারা তৈরি সম্ভব?
- গ)(3)
উদ্দীকের অসম্পূর্ণ প্রবাহ চিত্রটি সম্পূর্ণ করো ।
- ঘ)(4)
চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রযুক্তির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টিস্যু কালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ যা জীবাণুমুক্ত মাধ্যমে কালচার করার জন্য নেওয়া হয়, তাকে এক্সপ্লান্ট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে রোগমুক্ত চারা তৈরি সম্ভব। উদ্ভিদের শীর্ষমুকুল বা শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর কোষগুলো অত্যন্ত দ্রুত বিভাজিত হয়, ফলে এই অঞ্চলের টিস্যুতে ভাইরাস বা অন্যান্য রোগজীবাণু সাধারণত পৌঁছাতে পারে না। শীর্ষমুকুল বা মেরিস্টেম কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত বা ভাইরাসমুক্ত মেরিস্টেমকে এক্সপ্লান্ট হিসেবে ব্যবহার করে রোগমুক্ত ও সবল চারা উৎপাদন করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত প্রবাহচিত্রটি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির (জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং) ধাপসমূহ নির্দেশ করে। অসম্পূর্ণ প্রবাহচিত্রটির বিভিন্ন উপাদান ও ধাপ নিচে সম্পূর্ণ করা হলো:
১. বাম পাশের ব্যাকটেরিয়া থেকে সংগৃহীত F = প্লাজমিড DNA (বাহক)।
২. ডান পাশের উদ্ভিদ/প্রাণী কোষ থেকে সংগৃহীত G = কাঙ্ক্ষিত জিন বা কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ড।
৩. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা প্লাজমিড ও কাঙ্ক্ষিত DNA কেটে লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে জোড়া দিয়ে তৈরি P = রিকম্বিনেন্ট DNA (Recombinant DNA)।
৪. রিকম্বিনেন্ট DNA-কে উপযুক্ত পোষক ব্যাকটেরিয়ায় (যেমন- E. coli) প্রবেশ করানো অর্থাৎ Q = ট্রান্সফর্মেশন (Transformation)।
৫. পোষক ব্যাকটেরিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি ও জিনজাত উপাদান তৈরি অর্থাৎ R = রিকম্বিনেন্ট DNA এর ক্লোনিং এবং কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন উৎপাদন।সম্পূর্ণ প্রবাহচিত্র:
ব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাজমিড (F) + দাতা কোষ থেকে কাঙ্ক্ষিত DNA (G)
↓ (রেস্ট্রিকশন ও লাইগেজ এনজাইম)
রিকম্বিনেন্ট DNA (P)
↓
পোষক ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ/ট্রান্সফর্মেশন (Q)
↓
রিকম্বিনেন্ট DNA ক্লোনিং ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদ তৈরি (R) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। চিকিৎসাক্ষেত্রে এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে, যা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসার জন্য পূর্বে প্রাণীর অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করা হতো। বর্তমানে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের ইনসুলিন জিন ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টে প্রবেশ করিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন (হিউমুলিন) তৈরি করা হচ্ছে।
২. ইন্টারফেরন তৈরি: ইন্টারফেরন হলো ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষুদ্র প্রোটিন। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারফেরন উৎপাদন করে ক্যানসার, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য জটিল ভাইরাল রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে।
৩. বৃদ্ধি হরমোন ও এরিথ্রোপয়েটিন উৎপাদন: মানবদেহের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী গ্রোথ হরমোন এবং রক্তাল্পতা দূরীকরণে এরিথ্রোপয়েটিন রিকম্বিনেন্ট পদ্ধতিতে সফলভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
৪. টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরি: হেপাটাইটিস-বি, কলেরা এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের নিরাপদ রিকম্বিনেন্ট ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত।
৫. জিন থেরাপি ও ডায়াগনোসিস: জন্মগত ত্রুটিপূর্ণ বা রোগাক্রান্ত জিনকে সুস্থ জিন দ্বারা প্রতিস্থাপন করে বংশগত রোগ নিরাময়ে জিন থেরাপির ভিত্তি এই প্রযুক্তি। এছাড়া বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও ক্যানসার শনাক্তকরণে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রোব ব্যবহৃত হয়।
অতএব, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, হরমোন, অ্যান্টিবডি ও ভ্যাকসিন তৈরিতে উদ্দীপকের প্রযুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও