উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
২০১৯ সালে বিশ্বে করনা ভাইরাস সনাক্ত হয়। পরে এটি মহামারী আকার ধারণ করে। ২০২০ সালের করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রথম টিকা আবিষ্কৃত হয়।প্রথমে অনেকেই টিকা গ্রহণ করতে অনিহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সরকারি ও সামাজিক প্রচারণার মানুষ টিকা দিতে উদ্ভূত হয়। বর্তমান সারা বিশ্বে করনা মোকাবেলায় দেশীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার করায় করোনার টিকা গ্রহণে খুবই জনপ্রিয় ও কার্যকর হচ্ছে।
- ক)(1)
পণ্যের জীবন চক্র কি?
- খ)(2)
পণ্যের জীবন চক্রের ধারণা অনুযায়ী কোন স্তরে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
২০২০ সালের করনা টিকা পণ্যের জীবন চক্রের কোন স্তরে ছিল? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত করোনা টিকার ক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা সৃষ্টিতে সরকারি ও সামাজিক প্রচারণার যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি পণ্য বাজারে প্রথম আসা থেকে শুরু করে বাজার থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত যে বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, সেই পর্যায়গুলোর সমষ্টিকে পণ্যের জীবনচক্র (Product Life Cycle) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পণ্যের জীবনচক্রের ধারণা অনুযায়ী 'পূর্ণতা স্তর' (Maturity stage) সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
এই স্তরে পণ্যটি বাজারে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও স্থিতিশীলতা লাভ করে এবং অধিকাংশ সম্ভাব্য ক্রেতা পণ্যটির নিয়মিত ভোক্তায় পরিণত হয়। এ পর্যায়ে বিক্রয় বৃদ্ধির হার একসময় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে ধীরে ধীরে স্থির হয়ে যায়। বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও পণ্যটি দীর্ঘদিন বাজারে টিকে থাকে বিধায় এ স্তরটি অন্য সব স্তরের চেয়ে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০২০ সালে করোনা টিকা পণ্যের জীবনচক্রের 'সূচনা স্তর' বা 'ভূমিকা স্তর' (Introduction stage)-এ ছিল।
যে স্তরে নতুন আবিষ্কৃত কোনো পণ্য প্রথম বাজারে অবমুক্ত বা প্রবেশ করানো হয়, তাকে পণ্যের জীবনচক্রের সূচনা স্তর বলে। এই স্তরে পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ কম থাকে, উৎপাদন ও প্রসার ব্যয় বেশি হয়, ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যটি সম্পর্কে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অজ্ঞতা থাকে এবং মুনাফা খুবই কম বা ঋণাত্মক থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম টিকা আবিষ্কৃত হয় এবং প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেই টিকা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। অর্থাৎ টিকাটি তখন বাজারে একেবারেই নতুন ছিল এবং মানুষ এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না। সূচনা স্তরের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নতুন পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের ভীতি বা দ্বিধা থাকে, যা করোনা টিকার ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়েছে। অতএব, ২০২০ সালে করোনা টিকা সূচনা স্তরেই অবস্থান করছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত করোনা টিকার ক্ষেত্রে বাজারে সচেতনতা ও চাহিদা সৃষ্টিতে সরকারি ও সামাজিক প্রচারণার ভূমিকা অত্যন্ত ফলপ্রসূ, সময়োপযোগী ও যথার্থ ছিল।
নতুন কোনো পণ্য বা সেবা বাজারে চালু করার পর তা সম্পর্কে জনগণের অজ্ঞতা, ভয় বা দ্বিধা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো প্রসার ও গণসচেতনতা তৈরি করা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বা ওষুধের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে বিজ্ঞাপনের চেয়ে অবৈক্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য সরকারি ও সামাজিক প্রচার (Publicity) অনেক বেশি কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২০ সালে টিকা আবিষ্কারের পর মানুষের মধ্যে তা গ্রহণের ব্যাপারে ভয় ও অনীহা কাজ করছিল। কারণ মানুষ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যায়ে প্রচারণার ফলেই মানুষের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী টিকার চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, করোনা টিকার মতো জীবনরক্ষাকারী একটি নতুন পণ্যের প্রতি মানুষের অনীহা কাটিয়ে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টিতে এবং মহামারী নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও সামাজিক প্রচারণা অত্যন্ত সফল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও