উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • বিপণন পরিচিতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

সাজিয়া নাজনীন যশোরে 'লালপদ্ম' নামক শিশুদের পোশাকের একটি বিপণি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সবসময় ক্রেতাদের প্রয়োজন অভাব, চাহিদা, রুচি ও পছন্দের প্রতি দৃষ্টি রেখে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে শৈল্পিক ডিজাইনের পোশাক তৈরি ও বিক্রয় করেন। সম্প্রতি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে তার তৈরি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকেন। এর ফলে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাশিত বিক্রয় অর্জনে সক্ষম হন।

  1. ক)

    বিপণন কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্রেতা সন্তুষ্টি বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সাজিয়া নাজনীন প্রাথমিক পর্যায়ে বিপণনের কোন মৌলিক ধারণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সম্প্রতি সাজিয়া নাজনীনের প্রত্যাশিত বিক্রয় অর্জনের মূল কারণ কী? বিপণনের ক্রমবিকাশের যুগ উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভোক্তা বা ক্রেতার প্রয়োজন ও অভাব চিহ্নিত করে সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবার ধারণা সৃষ্টি, মূল্য নির্ধারণ, প্রসার ও বণ্টন সংক্রান্ত সামগ্রিক কার্যক্রমকে বিপণন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি পণ্য বা সেবা ব্যবহারের পর ক্রেতা যে প্রত্যক্ষ ফল লাভ করেন, তা যদি তার পূর্বপ্রত্যাশার সমান বা বেশি হয়, তখন ক্রেতার মনে যে অনুভূতির জন্ম হয় তাকে ক্রেতা সন্তুষ্টি বলে। ক্রেতার প্রত্যাশার চেয়ে পণ্যের কার্যকারিতা কম হলে ক্রেতা অসন্তুষ্ট হন, আর প্রত্যাশার সমান বা বেশি ফল পেলে ক্রেতা সন্তুষ্ট হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাজিয়া নাজনীন প্রাথমিক পর্যায়ে বিপণনের মৌলিক ধারণার মধ্যে 'ক্রেতার প্রয়োজন, অভাব ও চাহিদা' (Needs, Wants, and Demands) এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    বিপণনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো মানবীয় প্রয়োজন ও অভাব। কোনো কিছু হতে নিজেকে বঞ্চিত মনে করার অনুভূতিই প্রয়োজন, আর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বের প্রভাবে প্রয়োজন যখন রূপ লাভ করে তখন তা অভাব হয়। পাশাপাশি উপযুক্ত ক্রয়ক্ষমতা থাকলে তা চাহিদায় রূপ নেয়। সফল বিপণনকারীরা সবসময় ক্রেতার এসব প্রয়োজন, রুচি ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে পণ্য উন্নয়ন করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সাজিয়া নাজনীন পোশাকের বিপণি প্রতিষ্ঠা করে শুরুতেই ক্রেতাদের প্রয়োজন, অভাব, চাহিদা, রুচি ও পছন্দের প্রতি দৃষ্টি রেখেছিলেন। তিনি এসব বিষয়ের ভিত্তিতে মানসম্মত উপাদান দিয়ে শৈল্পিক পোশাক প্রস্তুত করেছিলেন। সুতরাং, প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিপণনের মৌলিক ধারণা হিসেবে ক্রেতার প্রয়োজন, অভাব ও চাহিদার ওপরই মূল গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্প্রতি সাজিয়া নাজনীনের প্রত্যাশিত বিক্রয় অর্জনের মূল কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (ফেসবুক) সহায়তায় ক্রেতাদের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, যা বিপণনের ক্রমবিকাশের 'সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগ' (Relationship Marketing Era) ও 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যুগ'-এর অন্তর্ভুক্ত।

    বিপণনের ক্রমবিকাশের ইতিহাসে উৎপাদন যুগ, বিক্রয় যুগ ও বিপণন যুগের পর বর্তমানে গ্রাহক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগে ক্রেতাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বর্তমান সময়ে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় সরাসরি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে পণ্য বিপণন করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাজিয়া নাজনীন ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতাদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকেন। আধুনিক যুগে ফেসবুক একটি কার্যকর মাধ্যম, যেখানে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া দ্রুত পাওয়া যায় এবং আস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়। এই ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার কারণেই তিনি স্বল্প সময়ে প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রত্যাশিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছেন।

    অতএব, সম্পর্কভিত্তিক বিপণন দর্শনের সঠিক প্রয়োগ এবং ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে কার্যকর দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই সাজিয়া নাজনীনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও বিক্রয় অর্জনের মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন