বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সমমনা যুবকদের নিয়ে নিজ গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা পরিবেশ, ধর্মান্ধতার কুফল ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করার কাজ করে চলেছে শিক্ষিত যুবক বাজিত। বাজিতের কাজ-কর্মে খুশি নয় গ্রাম্য মাতব্বর চেরাগালি। গ্রামের মানুষ সচেতন হলে তার প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে- এই তার ভয়। ওরা গান-বাজনা করে, মেয়ে লোকের সাথে আড্ডা দেয় ইত্যাদি অভিযোগ তুলে গোঁড়া সমর্থকদের সাথে নিয়ে সে বাজিতের ক্লাবে আগুন ধরিয়ে দেয়।
- ক)(1)
মজিদ কেন হাসপাতালে গিয়েছিল?
- খ)(2)
"বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ”- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
"উদ্দীপকের বাজিত 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের সাথে কীভাবে তুলনীয়? বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
"বাজিত ও আক্কাস মূলত স্বার্থান্বেষী মহলের হিংসার শিকার"- কথাটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নিজের প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মজিদের অন্তর্দৃষ্টিহীন, কঠোর এবং নিঃসংশয় ভণ্ডামিপূর্ণ অভিব্যক্তির দিকটি বোঝানো হয়েছে।
মজিদ ধর্মকে আত্মস্বার্থের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক অন্ধ বিশ্বাসের বলয় তৈরি করেছে। তার চোখে অনুশোচনা বা দ্বিধার কোনো চিহ্ন নেই, বরং রয়েছে নিজের তৈরি মিথ্যাকে নির্দ্বিধায় সত্য প্রমাণ করার অবিচল ও নির্দয় কাঠিন্য। পাথরে খোদাই করা জিনিসের মতো তার দৃষ্টিও অনুভূতিহীন, অনমনীয় এবং ধর্মের মুখোশে ঢাকা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বাজিত সমাজের কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা দূর করে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও শিক্ষিত করার উদ্যোগ গ্রহণের দিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের সাথে তুলনীয়।
'লালসালু' উপন্যাসে শিক্ষিত যুবক আক্কাস গ্রামকে আধুনিক আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয়ে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। সে চেয়েছিল গ্রামের ছেলেরা যাতে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সচেতন মানুষ হতে পারে।
উদ্দীপকের বাজিতও সমমনা তরুণদের নিয়ে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও ধর্মান্ধতার কুফল সম্পর্কে গ্রামবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে। সমাজসংস্কার ও আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে পশ্চাৎপদ সমাজকে জাগ্রত করার এই ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই উদ্দীপকের বাজিত উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বাজিত ও আক্কাস মূলত স্বার্থান্বেষী মহলের হিংসার শিকার"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সত্য।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মজিদের ধর্মীয় আধিপত্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। গ্রামের মানুষ সচেতন ও শিক্ষিত হলে মজিদের মাজারকেন্দ্রিক ধর্মব্যবসা এবং ভিত্তিহীন অন্ধবিশ্বাসের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে—এই আশঙ্কায় মজিদ কৌশলে দাড়ি না রাখার অজুহাত তুলে ধর্মপ্রাণ গ্রামবাসীকে আক্কাসের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে এবং তার স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাজিতের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড মাতব্বর চেরাগালির প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভীতি তৈরি করে। তাই সে বাজিতের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপবাদ তুলে গোঁড়া সমর্থকদের সাথে নিয়ে ক্লাবে আগুন লাগিয়ে দেয়।
উভয় ক্ষেত্রেই শুভ ও প্রগতিশীল উদ্যোগকে সমাজের কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল—উপন্যাসে মজিদ এবং উদ্দীপকে চেরাগালি—তাদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হিংসাত্মক মনোভাব থেকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে বাজিত ও আক্কাস উভয়ই শোষক ও ধর্মান্ধ শক্তির হিংসার নির্মম শিকার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও