জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের মাথার খুলিতে মুখমন্ডলীয় অংশে নাসাগহ্বরের দু'পাশে চার জোড়া বিশেষ গহ্বর থাকে যা বাতাসের পরিবর্তে তরলে পূর্ণ হলে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে।
- ক)(1)
ডায়াফ্রাম কী?
- খ)(2)
ওটিটিস মিডিয়া বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চার জোড়া গহ্বরের নাম, অবস্থান ও প্রদাহ সম্পর্কে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রদাহ থেকে কীভাবে মুক্ত থাকা যায়— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরকে পৃথককারী মাংসল ও উত্তল পেশীবহুল পর্দাকে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওটিটিস মিডিয়া হলো মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহ। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণে এবং ইউস্টেশিয়ান নালীর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ফলে মধ্যকর্ণে তরল জমে এই প্রদাহ ও তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চার জোড়া বিশেষ গহ্বর হলো প্যারানাসাল সাইনাস। এদের নাম ও অবস্থান নিচে দেওয়া হলো:
১. ম্যাক্সিলারি সাইনাস: চোখের নিচে গালের অভ্যন্তরে বা ঊর্ধ্বচোয়ালের দু'পাশে অবস্থিত।
২. ফ্রন্টাল সাইনাস: চোখের ঠিক উপরে কপালের ফ্রন্টাল অস্থির মধ্যে অবস্থিত।
৩. এথময়েড সাইনাস: নাসাগহ্বরের পেছনের অংশে দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
৪. স্ফেনয়েড সাইনাস: এথময়েড সাইনাসের পেছনে স্ফেনয়েড অস্থির অভ্যন্তরে অবস্থিত।প্রদাহ (সাইনুসাইটিস):
সাইনাসগুলো সুস্থ অবস্থায় বায়ুপূর্ণ থাকে। তবে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লি ফুলে গিয়ে এর নালীপথ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে তরল ও মিউকাস জমে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একে সাইনুসাইটিস বলে। লক্ষণভেদে এটি তীব্র (একিউট) বা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) রূপ ধারণ করতে পারে, যার প্রধান লক্ষণ হলো মাথা ও মুখের সংশ্লিষ্ট অংশে তীব্র ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া ইত্যাদি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রদাহটি হলো সাইনুসাইটিস। এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বা এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায়:
১. উষ্ণ বাষ্প গ্রহণ: ফুটন্ত গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন দিনে ২-৩ বার নিলে বন্ধ নাক খুলে যায় এবং সাইনাসের পথ পরিষ্কার হয়।
২. স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার: হালকা গরম লবণ-পানি বা নরমাল স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে মিউকাস জমাট বাঁধতে পারে না।
৩. পর্যাপ্ত তরল পান: প্রচুর পরিমাণ কুসুম গরম পানি, স্যুপ ইত্যাদি তরল খাবার খেলে মিউকাস পাতলা হয়ে সহজে বেরিয়ে যায়।
৪. অ্যালার্জেন ও দূষণ পরিহার: ধুলাবালি, ধোঁয়া, পরাগরেণু এবং ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
৫. ওষুধ সেবন: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিহিস্টামিন, ডিকনজেস্ট্যান্ট বা তীব্র ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।
৬. শল্যচিকিৎসা: নাকের বাঁকা হাড় (DNS) বা নাকের পলিপের কারণে সাইনাস অবরুদ্ধ হলে অপারেশনের মাধ্যমে তা দূর করা প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও