সাহিত্য পাঠ • বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একসময় ঈশা খাঁর সঙ্গে মানসিংহের যুদ্ধ হয়। রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। মানসিংহ অসহায় হয়ে পড়েন। ঈশা খাঁ। চাইলে এই অবস্থায় মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু, বীরযোদ্ধা ঈশা খাঁ তা না করে নিজের কোষ থেকে একখানি ভালো তলোয়ার বের করে মানসিংহকে উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহবান জানালেন। মানসিংহ ঈশা খাঁর এই মহানুভবতা, ঔদার্য ও বীরধর্মের আদর্শ দেখে মুগ্ধ হলেন এবং যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি স্থাপনে এগিয়ে আসলেন।
- ক)(1)
মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী?
- খ)(2)
"স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্বানুর ললাটে" কবিতার এই চরণ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?২
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঈশা খাঁ ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপক ও বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবনা এক নয়।”- মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে"— চরণটি দিয়ে বিধাতা বা সৃষ্টিকর্তা চাঁদকে যেমন মহাদেবের কপালে পরম শ্রদ্ধার উচ্চাসনে স্থান দিয়েছেন, তেমনি রাঘবদের সাথে বিভীষণের মিলনকে ধিক্কার জানাতে মেঘনাদ এ উপমা ব্যবহার করেছে।
মেঘনাদ তার পিতৃব্য বিভীষণকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে যে, রাক্ষসরাজ রাবণের ভ্রাতা হিসেবে তার স্থান সমাজে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও উঁচুতে— ঠিক যেমন শিবের কপালে বিধাতা চাঁদকে সুশোভিত করেছেন। অথচ সেই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বিভীষণ আজ হীন স্বভাবের রাম-লক্ষ্মণের সেবাদাসে পরিণত হয়ে ভূতলে ধূলায় লুটোপুটি খাচ্ছে, যা কোনোভাবেই শোভা পায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঈশা খাঁর রণনৈতিক সততা ও বীরধর্মের আদর্শের সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের ছলনাময়ী ও কাপুরুষোচিত আচরণের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় দেখা যায়, লক্ষ্মণ বিভীষণের সহায়তায় অলক্ষ্যে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। সেখানে মেঘনাদ যখন সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও পূজারত অবস্থায় ছিল, তখন লক্ষ্মণ তাকে যুদ্ধে আহ্বান জানায় এবং নিরস্ত্র মেঘনাদকে অন্যায়ভাবে বধ করতে উদ্যত হয়। লক্ষ্মণের এই আচরণ যুদ্ধনীতির চরম লঙ্ঘন এবং এক কাপুরুষতার নিদর্শন।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে দেখা যায় রণনিপুণ ঈশা খাঁ যুদ্ধে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেলে তাকে অসহায় পেয়েও হত্যা করেননি। বরং প্রকৃত বীরধর্ম প্রদর্শন করে তিনি নিজের কোষ থেকে মানসিংহকে তলোয়ার উপহার দিয়ে পুনরায় সম্মুখযুদ্ধের আহ্বান জানান। ঈশা খাঁর এই মহানুভবতা ও প্রকৃত বীরের আদর্শের ঠিক বিপরীত চিত্র লক্ষ্মণের ভেতর প্রকাশ পেয়েছে, যে নিরস্ত্র শত্রুকে কাপুরুষের মতো আক্রমণ করেছিল। এখানেই উভয়ের মধ্যকার প্রধান আদর্শগত বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবনা এক নয়"— মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকের মূলভাব হলো শত্রুর প্রতি মহানুভবতা, যুদ্ধক্ষেত্রের নৈতিকতা ও বীরধর্মের উদারতা প্রদর্শন। ঈশা খাঁ নিরস্ত্র শত্রুর ওপর আঘাত না করে নিজের অস্ত্র দিয়ে বীরোচিত আচরণের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতার বদলে সন্ধি ও শ্রদ্ধা স্থাপিত হয়। এটি মূলত ক্ষমা ও বীরত্বের জয়গান।
অন্যদিকে, 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবনা দাঁড়িয়ে আছে দেশপ্রেম, স্বজাতিপ্রীতি এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কারের ওপর। কাব্যাংশে একদিকে লঙ্কার স্বাধীনতা রক্ষায় বীর মেঘনাদের অনমনীয় দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিফলিত হয়েছে, অন্যদিকে লক্ষ্মণের অন্যায় সমরাচরণ এবং নিজ বংশ ও দেশের সাথে বিভীষণের জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে ক্ষমা বা উদারতার চেয়ে বিশ্বাসঘাতকতার বেদনা ও স্বদেশপ্রেমের মহিমাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
অতএব, উদ্দীপকের উদার বীরধর্মের কাহিনী এবং কবিতার স্বদেশপ্রেম বনাম দেশদ্রোহিতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পটভূমি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও কবিতার মূলভাবনা কোনোভাবেই এক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও