ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার কৃষি, শিল্পসহ অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতকে শক্তিশালীকরণ। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ব্যাংকসমূহ গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সহজশর্তে ঋণ দিচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের কৃষিখাত সবসময় অবহেলিত। প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অভাবে দিন দিন কৃষি পেশা হিসেবে আকর্ষণ হারাচ্ছে, যা কাম্য কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। এ বাস্তব সমস্যা অবগত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি তার তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহকে তাদের মোট প্রদত্ত ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কৃষকদের প্রদান করা বাধ্যতামূলক করে আদেশ জারি করেছে।

  1. ক)

    নিকাশ ঘর কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন ব্যাংককে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয় এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন ধরনের গুণগত পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ জারির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকাশ ঘর (Clearing House) হলো এমন একটি সুনির্দিষ্ট স্থান বা ব্যবস্থা, যেখানে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে দৈনিকভাবে নিজেদের মধ্যকার আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয়, কারণ এটি দেশের সামগ্রিক অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক এবং মুদ্রাবাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এককভাবে মুদ্রা প্রচলনের অধিকার ভোগ করে, মুদ্রার মান ও অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বজায় রাখে, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে এবং সংকটের সময় ঋণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। মুদ্রাবাজারের সুষ্ঠু শৃঙ্খলা, সম্প্রসারণ ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার সার্বিক দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকে বলেই একে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত বা নির্বাচনমূলক পদ্ধতির অন্তর্গত 'ঋণের রেশনিং' (Credit Rationing) পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ঋণের রেশনিং বা বরাদ্দকরণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন একটি গুণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট খাতে বাধ্যতামূলকভাবে বণ্টন বা বরাদ্দ করে দেওয়া হয় অথবা নির্দিষ্ট খাতের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ও শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অনুৎপাদনশীল খাত থেকে ঋণ প্রত্যাহার করে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঋণের প্রবাহ নিশ্চিত করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষি খাতের উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তার তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে তাদের মোট প্রদত্ত ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক করেছে। অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে নির্দিষ্ট হারে ঋণ প্রদান বাধ্যতামূলক করার এই পদক্ষেপটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ রেশনিং পদ্ধতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ জারির সিদ্ধান্তটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কৃষিখাতের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য থাকলেও ব্যাংকগুলো মূলত গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্প খাতে ঋণ দেওয়ায় আগ্রহী ছিল এবং কৃষিখাত ছিল চরমভাবে অবহেলিত। পুঁজির অভাবে কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ, সার ও সেচযন্ত্র ক্রয় করতে পারছিল না, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং কৃষক পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছিল।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত মুনাফামুখী হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষুদ্র কৃষি ঋণে আগ্রহ দেখায় না। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিভাবক হিসেবে নীতিগত হস্তক্ষেপ করে বাধ্যতামূলক কোটা বা বরাদ্দ নির্ধারণ করে না দিলে কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো এবং গ্রামীণ মহাজনদের উচ্চ সুদের ফাঁদে পড়ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বাধ্যতামূলক আদেশ জারির ফলে প্রান্তিক কৃষকের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত হবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সহজতর হবে। সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আদেশ জারি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন