জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ডঃ কবির তার গবেষণাগারে একটি বিশেষ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু অনেক ধানের চারা উৎপন্ন করলেন। ডঃ আহসান এইসব চারাগাছকে অন্য এক প্রযুক্তির মাধ্যমে লবণ সহিষ্ণু জাতে পরিবর্তন করেন।
- ক)(1)
জিন ক্লোনিং কাকে বলে?
- খ)(2)
জিনোম সিকোয়েন্সিং বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ডঃ কবির কী কী ধাপ অনুসরণ করলেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লেখ।
- ঘ)(4)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে ডঃ আহসানের প্রযুক্তিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট জিন বা ডিএনএ খণ্ডের হুবহু একাধিক অনুলিপি বা কপি তৈরির জৈবপ্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াকে জিন ক্লোনিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীবের সম্পূর্ণ জিনোমে (অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড সেটের ক্রোমোজোমে) বিদ্যমান ডিএনএ-এর সকল নিউক্লিওটাইড ক্ষারকের (A, T, C, G) সুনির্দিষ্ট অনুক্রম বা বিন্যাস পদ্ধতিগতভাবে নির্ণয় করার প্রক্রিয়াকে জিনোম সিকোয়েন্সিং বলে। এর মাধ্যমে জীবের বংশগতীয় সমস্ত বৈশিষ্ট্যের আণবিক নকশা উন্মোচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডঃ কবির যে বিশেষ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু ধানের চারা উৎপন্ন করেছেন, তা হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার প্রযুক্তি (মাইক্রোপ্রোপাগেশন)। এ প্রযুক্তিতে তিনি নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরণ করেছেন:
১. মাতৃউদ্ভিদ ও এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: সুস্থ, রোগমুক্ত ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ধানের চারা থেকে বিভাজনক্ষম অংশ (যেমন- শীর্ষ মুকুল বা ভ্রূণ) এক্সপ্লান্ট হিসেবে সংগ্রহ করা।
২. পুষ্টি মাধ্যম (Culture medium) তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাক্রো ও মাইক্রো উপাদান, ভিটামিন, সুক্রোজ এবং বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন (অক্সিন ও সাইটোকাইনিন) সমৃদ্ধ উপযুক্ত মাধ্যম (যেমন- MS মাধ্যম) তৈরি এবং অ্যাগার মিশিয়ে তা জমাটবদ্ধ করা।
৩. জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization): অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপ (১২১° সে.) ও চাপে (১৫ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি) কালচার মাধ্যম ও পাত্র জীবাণুমুক্ত করা এবং এক্সপ্লান্টের পৃষ্ঠতলীয় নির্বীজন নিশ্চিত করা।
৪. মাধ্যমে এক্সপ্লান্ট স্থাপন (Inoculation): জীবাণুমুক্ত পরিবেশে ল্যামিনার এয়ার ফ্লো ক্যাবিনেটে পুষ্টি মাধ্যমে এক্সপ্লান্টটি স্থাপন করা।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও অণুচারা উৎপাদন: নির্দিষ্ট আলো (১৬ ঘণ্টা) ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় (২৫°±২° সে.) রেখে অবিন্যস্ত কোষপিণ্ড বা ক্যালাস তৈরি করা এবং পরবর্তীতে তা থেকে অঙ্কুর বা অণুচারা সৃষ্টি করা।
৬. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর ও শক্তকরণ: চারাগুলোতে মূল সৃষ্টির জন্য মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর করা এবং এরপর টবে ও প্রাকৃতিক পরিবেশে চারাগুলো অভিযোজিত (Hardening) করে রোপণ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডঃ আহসানের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং), যার মাধ্যমে তিনি উদ্ভিদের কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তর করে লবণ সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকায়নে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা নিম্নরূপ:
১. ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় হিউম্যান ইনসুলিন (হিউমুলিন) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াতে মানুষের ইনসুলিন সৃষ্টিকারী জিন প্রতিস্থাপন করে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে।
২. ইন্টারফেরন উৎপাদন: ভাইরাল সংক্রমণ ও ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহৃত মানবদেহের ইন্টারফেরন প্রোটিন এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টে সংশ্লেষণ করা হচ্ছে।
৩. টিকা বা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন: হেপাটাইটিস-বি, কলেরা, পোলিওসহ মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে আধুনিক নিরাপদ সাব-ইউনিট রিকম্বিন্যান্ট ভ্যাকসিন তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
৪. হিউম্যান গ্রোথ হরমোন তৈরি: বামনত্ব দূরীকরণ ও শারীরিক বৃদ্ধিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় মানব বৃদ্ধির হরমোন (Human Growth Hormone) সংশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
৫. জিন থেরাপি: বংশগত মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ জিন সংশোধন বা প্রতিস্থাপন করে সুস্থ জিন সংযোজনের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস ইত্যাদি জটিল জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় রিকম্বিন্যান্ট প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
৬. মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিবায়োটিক: বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও লক্ষ্যনির্দিষ্ট থেরাপির জন্য অ্যান্টিবডি এবং উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে এ প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহৃত হয়।সুতরাং, চিকিৎসা ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা উৎপাদনে ডঃ আহসানের প্রযুক্তিটি (রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি) বৈপ্লবিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও