সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' একটি সামাজিক আইন। আইনটি বাংলাদেশের নারীদের নিরাপত্তা রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত। এই আইনটিতে দেনমোহর, বালাক, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি সংক্রান্ত ধারা রয়েছে।

  1. ক)

    Social Legislation' এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আইনের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Social Legislation' এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সামাজিক আইন'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক আইনের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের অনগ্রসর, দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও তাদের নিরাপত্তা বিধান করা।

    সমাজস্থ নারী, শিশু, প্রবীণ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন বঞ্চনা, শোষণ বা বৈষম্যের শিকার না হন এবং স্বাভাবিক সামাজিক মর্যাদায় জীবনযাপন করতে পারেন, সেজন্য সামাজিক আইন প্রণয়ন করা হয়। এটি সামাজিক অবিচার ও কুপ্রথা রোধ করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-এর কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' আইনটিকে বাংলাদেশের নারীদের নিরাপত্তা রক্ষাকবচ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যাতে দেনমোহর, তালাক, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারা বিদ্যমান। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, তালাক রেজিস্ট্রেশন ও নোটিশ প্রদান, দেনমোহর আদায়, ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণ এবং উত্তরাধিকার সম্পর্কিত অধিকারের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ পাসের মাধ্যমে নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক নিরাপত্তা বিধানে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, এই আইন প্রণয়নের পূর্বে সমাজে যথেচ্ছ বহুবিবাহ এবং তাৎক্ষণিক তালাকের মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দেওয়া হতো। এই আইন বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে এবং তালাক কার্যকর করতে ৯০ দিনের সালিশি প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, যা হঠকারী পারিবারিক ভাঙন রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    দ্বিতীয়ত, স্বামীর ওপর স্ত্রীর দেনমোহর ও ভরণপোষণ পরিশোধের আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রী আদালতে যাওয়ার অধিকার পান, যা নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে।

    তৃতীয়ত, এ আইনের মাধ্যমে পিতা-মাতার জীবদ্দশায় কোনো সন্তান মারা গেলে তার এতিম সন্তানদের পিতামহের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এক অনন্য সামাজিক সংস্কার।

    পরিশেষে বলা যায়, তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিতে এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন