পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারতের গর্ভনর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়।
- ক)(1)
ভাগ কর শাসনকর নীতি কী?
- খ)(2)
মাওলানা ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে আইনের কথা বলা হয়েছে, তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে উসকে দিয়ে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে শাসন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশলকে 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি ও শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিঃস্বার্থভাবে দরিদ্র ও অত্যাচারিত বা 'মজলুম' জনগণের পাশে থাকার কারণেই তিনি 'মজলুম জননেতা' হিসেবে ভূষিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act 1947)-এর কথা বলা হয়েছে।
এই আইনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়ন সৃষ্টি: এই আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
২. ভারত সচিবের পদ বিলোপ: ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী 'ভারত সচিব' (Secretary of State for India) পদটি বিলুপ্ত করা হয় এবং ব্রিটিশ রাজশক্তির সার্বভৌম ক্ষমতার অবসান ঘটে।
৩. গণপরিষদের সার্বভৌম ক্ষমতা: উভয় রাষ্ট্রের জন্য পৃথক গণপরিষদ গঠিত হয়, যাদের নিজস্ব সংবিধান প্রণয়ন এবং যেকোনো আইন তৈরির পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর গুরুত্ব অপরিসীম।
১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুইশত বছরের সুদীর্ঘ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং ভারতীয় জনগণ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পায়।
২. নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম: আইনটি দ্বিজাতি তত্ত্বের বাস্তব রূপ দান করে হিন্দু ও মুসলিম প্রধান অঞ্চলের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
৩. সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন: নবগঠিত রাষ্ট্র দুটিকে নিজেদের ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সংবিধান কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে সাময়িকভাবে পরিচালনা করার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।
৪. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: ব্রিটিশ অধীনস্থ দেশীয় রাজ্যগুলোকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।পরিশেষে, নানা জটিলতা ও দেশভাগের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও