অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কবির সাহেব দীর্ঘদিন আমেরিকায় বসবাস করছেন। সম্প্রতি ১৫ বছর পর দেশে বেড়াতে এসে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তবে এই উন্নয়নের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা কোন কোন উৎস হতে সংগৃহীত হয়েছে তা তাকে ভাবিয়ে তোলে। বিষয়টি তিনি তার বন্ধু অর্ণবের সাথে আলাপ করেন এবং জানতে পারেন এদেশের নাগরিকরা এখন অনেক সচেতন। সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্ব ছাড়াও সরকারের কর রাজস্ব ও অকর রাজস্বের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাঙালিদের অর্জিত অর্থ ও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা হতে প্রাপ্ত ঋণ, সাহায্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ক)(1)
প্রত্যক্ষ কর কী?
- খ)(2)
পরোক্ষ কর ফাঁকি দেওয়া যায় না-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত, ঋণ এর তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে করের প্রাথমিক ভার (আঘাত) এবং চূড়ান্ত ভার একই ব্যক্তি বহন করে এবং যার বোঝা অন্যের ওপর চাপানো যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে (যেমন—আয়কর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরোক্ষ কর পণ্যের বা সেবার দামের সাথে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকে। ক্রেতা যখন কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করে, তখন তাকে মূল্যের সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কর পরিশোধ করতে হয়। পণ্য কেনার মুহূর্তে কর আলাদাভাবে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় এবং দামের অন্তর্ভুক্ত থাকায় সাধারণ ভোক্তার পক্ষে পরোক্ষ কর ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহকে প্রধানত দুটি ভাগে এবং তাদের উপখাতসমূহে চিহ্নিত করা যায়:
১. কর রাজস্ব (Tax Revenue): উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদের কর সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে অর্জিত আয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রত্যক্ষ কর (যেমন: আয়কর) এবং পরোক্ষ কর (যেমন: মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি)।
২. অকর রাজস্ব (Non-tax Revenue): সরকার কর ছাড়া বিভিন্ন সেবা, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান থেকে যে আয় লাভ করে; যেমন—ফি, জরিমানা, লভ্যাংশ ও মুনাফা, ডাক ও তার ইত্যাদি। উদ্দীপকে অকর রাজস্বের বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
৩. বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য (Foreign Aid & Loans): উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা হতে প্রাপ্ত ঋণ এবং অনুদান বা সাহায্য সরকারের উন্নয়ন বাজেটের বড় উৎস।
৪. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP): অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতের পুঁজি ও বিনিয়োগের সংস্থান।
অতএব, উদ্দীপকে সরকারের আয়ের কর রাজস্ব, অকর রাজস্ব, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এবং পিপিপি উদ্যোগসমূহ বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থায়নের উৎস হিসেবে 'ঋণ' (অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক)-এর উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ঋণের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা নিচে আলোচনা করা হলো:
ঋণের সুবিধাসমূহ:
১. দ্রুত অর্থায়ন: অবকাঠামোগত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন: সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহাসড়ক) বাস্তবায়নে নিজস্ব রাজস্ব যথেষ্ট না হলে ঋণ দ্রুত প্রয়োজনীয় তহবিলের সংস্থান করে।
২. করের চাপ হ্রাস: তাৎক্ষণিকভাবে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ঋণের মাধ্যমে ব্যয় নির্বাহ করা যায়।
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: অবকাঠামোগত উন্নয়ন উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।ঋণের অসুবিধাসমূহ:
১. সুদের বোঝা: গৃহীত ঋণের বিপরীতে নিয়মিত মোটা অঙ্কের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়, যা রাজস্ব আয়ের বড় অংশ গ্রাস করে।
২. মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি: অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ করলে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
৩. পরনির্ভরশীলতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ: বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে দাতা দেশ বা সংস্থাগুলোর নানা অনাকাঙ্ক্ষিত শর্ত মেনে নিতে হয়, যা কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে।পরিশেষে, সরকার যদি ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করে উৎপাদনশীল অবকাঠামো নির্মাণে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে, তবে এর সুবিধার পাল্লাই ভারী হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও