রসায়ন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
C3H8O→(O)A→(O)B \mathrm{C}{3} \mathrm{H}{8} \mathrm{O} \xrightarrow{(\mathrm{O})} \mathrm{A} \xrightarrow{(\mathrm{O})} \mathrm{B} (X)C3H8O→(O)C \mathrm{C}{3} \mathrm{H}{8} \mathrm{O} \xrightarrow{(\mathrm{O})} \mathrm{C} (Y) আংশিক জারণ[X ও Y যথাক্রমে 1° ও 2° অ্যালকোহল]
- ক)(1)
SI এককে R এর মান কত?
- খ)(2)
0.1M Na2CO3 0.1 \mathrm{M} ~\mathrm{Na}{2} \mathrm{CO}{3} , দ্রবণ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
B যৌগের শনাক্তকারী বিক্রিয়া সমীকরণসহ লেখো।
- ঘ)(4)
কেন্দ্রাকর্ষী যুত বিক্রিয়ায় A,B ও C এর মধ্যে কোনটি অধিক সক্রিয় হবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
SI এককে মোলার গ্যাস ধ্রুবক R এর মান হলো 8.314 J K^-1 mol^-1 বা 8.314 N m K^-1 mol^-1।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
0.1 M Na2CO3 দ্রবণ বলতে বোঝায়, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি ১ লিটার বা ১০০০ mL দ্রবণে 0.1 মোল Na2CO3 দ্রবীভূত থাকা।
Na2CO3 এর মোলার ভর = (23 × 2) + 12 + (16 × 3) = 106 g/mol।
সুতরাং, 0.1 মোল Na2CO3 = 0.1 × 106 g = 10.6 g।
অতএব, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১ লিটার দ্রবণে 10.6 গ্রাম সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবীভূত থাকলে সেই দ্রবণকে 0.1 M Na2CO3 দ্রবণ (একটি ডেসিমোলার দ্রবণ) বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে X হলো 1° অ্যালকোহল অর্থাৎ প্রোপানল-১ (CH3-CH2-CH2-OH)। একে জারণ করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড 'A' (প্রোপান্যাল, CH3-CH2-CHO) এবং পরবর্তীতে জারিত হয়ে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড 'B' (প্রোপানয়িক অ্যাসিড, CH3-CH2-COOH) উৎপন্ন হয়।
B যৌগ (প্রোপানয়িক অ্যাসিড) শনাক্তকরণ পরীক্ষা:
সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) পরীক্ষা:
একটি টেস্টটিউবে প্রোপানয়িক অ্যাসিড নিয়ে তাতে সোডিয়াম বাইকার্বনেটের (NaHCO3) জলীয় দ্রবণ যোগ করলে প্রচুর বুদ্বুদসহ বর্ণহীন ও গন্ধহীন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস নির্গত হয়। নির্গত গ্যাসকে চুনের পানির মধ্য দিয়ে চালনা করলে তা ঘোলা হয়।বিক্রিয়া:
CH3-CH2-COOH + NaHCO3 --> CH3-CH2-COONa + CO2 (g) + H2O
CO2 + Ca(OH)2 --> CaCO3 (ঘোলা অধঃক্ষেপ) + H2Oএই বিক্রিয়ার সাহায্যে নিশ্চিতভাবে B যৌগটি যে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড (প্রোপানয়িক অ্যাসিড), তা শনাক্ত করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে:
- X হলো 1° অ্যালকোহল (প্রোপানল-১), যাকে জারিত করলে A উৎপন্ন হয়। সুতরাং A হলো অ্যালডিহাইড (প্রোপান্যাল, CH3-CH2-CHO)।
- A কে পুনরায় জারিত করলে B উৎপন্ন হয়, সুতরাং B হলো কার্বক্সিলিক অ্যাসিড (প্রোপানয়িক অ্যাসিড, CH3-CH2-COOH)।
- Y হলো 2° অ্যালকোহল (প্রোপানল-২), যাকে আংশিক জারণ করলে C উৎপন্ন হয়। সুতরাং C হলো কিটোন (প্রোপানোন, CH3-CO-CH3)।
কেন্দ্রাকর্ষী যুত (Nucleophilic Addition) বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে:
কার্বক্সিলিক অ্যাসিড (B) সাধারণত কেন্দ্রাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া দেয়, যুত বিক্রিয়া দেয় না; কারণ এর -OH গ্রুপ রেজোন্যান্সের মাধ্যমে কার্বোনিল কার্বনের ইলেকট্রন ঘাটতি হ্রাস করে এবং এটি একটি ভালো অপসরণীয় গ্রুপ।সুতরাং মূলত কার্বোনিল যৌগ প্রোপান্যাল (A) এবং প্রোপানোন (C)-এর মধ্যে কেন্দ্রাকর্ষী যুত বিক্রিয়ার সক্রিয়তা তুলনা করা হয়:
১. ইলেকট্রনীয় প্রভাব (Electronic effect):
প্রোপান্যালে কার্বোনিল কার্বনের সাথে একটি অ্যালকাইল মূলক (ইথাইল মূলক, -CH2-CH3) এবং একটি হাইড্রোজেন যুক্ত থাকে। অন্যদিকে প্রোপানোনে দুটি ইলেকট্রন প্রদানকারী মিথাইল মূলক (-CH3) যুক্ত থাকে। মিথাইল মূলকগুলোর ধনাত্মক আবেশীয় (+I) প্রভাবের কারণে প্রোপানোনের কার্বোনিল কার্বনের ধনাত্মক চার্জের ঘনত্ব প্রোপান্যালের চেয়ে অনেক বেশি হ্রাস পায়। ফলে আক্রমণকারী নিউক্লিওফাইলের প্রতি প্রোপান্যালের আকর্ষণ বেশি থাকে।২. স্থানিক বাধা (Steric hindrance):
প্রোপান্যালে কার্বোনিল মূলকের একপাশে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকায় স্থানিক বাধা খুবই কম। কিন্তু প্রোপানোনের কার্বোনিল কার্বনের উভয় পাশে দুটি তুলনামূলক ভারী মিথাইল মূলক বিদ্যমান থাকায় সেখানে স্থানিক বাধা (Steric hindrance) অনেক বেশি হয়, যা নিউক্লিওফাইলের আক্রমণে বাধা সৃষ্টি করে।অতএব, ইলেকট্রনীয় এবং স্থানিক উভয় দিক বিবেচনায় কেন্দ্রাকর্ষী যুত বিক্রিয়ায় A, B ও C-এর মধ্যে A (প্রোপান্যাল) সবচেয়ে অধিক সক্রিয়। সক্রিয়তার ক্রম: A > C > B।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও