ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রায়হান তার আরও ৬ বন্ধুকে নিয়ে 'বন্ধন' নামের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রতিষ্ঠানটি স্মারকলিপি তৈরি করলেও কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল-১ কে পরিমেল নিয়মাবলি হিসেবে গ্রহণ করে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য শেয়ার ছাড়ার কথা চিন্তা করছেন যাতে মালিকানাস্বত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে।

  1. ক)

    শেয়ার কী?

    (1)
  2. খ)

    ঋণপত্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানিটির ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিষ্ঠানটির করণীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌথমূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান একককে শেয়ার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার হলো এমন একটি লিখিত দলিল বা স্বীকৃতিপত্র, যার মাধ্যমে কোম্পানি সাধারণ জনগণের নিকট থেকে নির্দিষ্ট সুদের হারে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে।

    কোম্পানি যখন জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ নেয়, তখন ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, পরিশোধের মেয়াদ ও শর্তাদি উল্লেখ করে সিলমোহরাঙ্কিত যে সনদ ঋণদাতাকে প্রদান করে, তাকে ঋণপত্র বলে। ঋণপত্রের গ্রহীতারা কোম্পানির মালিক নন, তারা কেবল কোম্পানির পাওনাদার হিসেবে বিবেচিত হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'বন্ধন' প্রতিষ্ঠানটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।

    ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে কোম্পানিতে সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ সদস্য থাকে এবং যা জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির আহ্বান জানাতে পারে, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। এ ধরনের কোম্পানির ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলির বিকল্প হিসেবে কোম্পানি আইনের 'তফসিল-১' গ্রহণ করার সুযোগ থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রায়হান ও তার আরও ৬ জন বন্ধু— অর্থাৎ মোট ৭ জন সদস্য মিলে 'বন্ধন' প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলি তৈরির পরিবর্তে কোম্পানি আইনের 'তফসিল-১' কে পরিমেল নিয়মাবলি হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা কেবল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে 'বন্ধন' একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাস্বত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করা অথবা ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার) ইস্যু করা উচিত।

    সাধারণত নতুন সাধারণ শেয়ার জনসাধারণের কাছে বিক্রয় করলে নতুন শেয়ারহোল্ডাররা ভোটাধিকার লাভ করেন, যার ফলে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ণ হয়। মালিকানাস্বত্ব ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ধরে রাখতে চাইলে ভোটাধিকারবিহীন অর্থায়ন উৎস বেছে নিতে হয়।

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান 'বন্ধন' একটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য মূলধন সংগ্রহ করতে চাচ্ছে, কিন্তু বর্তমান ৭ জন উদ্যোক্তা তাদের মালিকানাস্বত্ব ও নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখতে আগ্রহী। এ অবস্থায় তাদের করণীয় হলো:
    ১. ভোটাধিকারহীন অগ্রাধিকার শেয়ার (Preference Share) ইস্যু করা: এ ধরনের শেয়ারহোল্ডাররা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান কিন্তু তাদের ভোটাধিকার থাকে না, যার ফলে বর্তমান মালিকদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
    ২. অধিকারযোগ্য শেয়ার (Rights Share) ইস্যু করা: নতুন শেয়ারগুলো বহিরাগতদের না দিয়ে বর্তমান মালিকদের মধ্যে তাদের বর্তমান শেয়ারের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
    ৩. ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার) বা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণ: ঋণপত্র ইস্যু করলে কোম্পানি কেবল ঋণগ্রস্ত হয়, এতে পাওনাদারের ভোটাধিকার বা মালিকানাস্বত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

    অতএব, মালিকানাস্বত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অর্থসংস্থানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির উচিত অগ্রাধিকার শেয়ার বা ঋণপত্র ইস্যু করার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন