বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে অদ্য এখানে অর্ধমাইল দীর্ঘ শোভাযাত্রা বাহির হয়। শোভাযাত্রীগণ 'নূরুল আমিনের রক্ত চাই,' 'নাজিমুদ্দিন গদি ছাড়' প্রভৃতি ধ্বনি করিতে থাকে। শোভাযাত্রীগণ লালদীঘি ময়দানে জমায়েত হইয়া সভা করে।
- ক)(1)
বঙ্গবন্ধুকে ডাবের পানি খাইয়ে অনশন ভাঙান কে?
- খ)(2)
মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে-ব্যাখ্যা করো।'
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' শীর্ষক রচনার পটভূমিগত অভিন্নতা রয়েছে"- মন্তব্যটি যাচাইকরো।
- ঘ)(4)
বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বক্তার বিড়ম্বিত পারিবারিক জীবনের নানা তথ্য রয়েছে যা উদ্দীপকে নেই।"— যুক্তি দিয়ে বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গবন্ধুকে ডাবের পানি খাইয়ে অনশন ভাঙান মহিউদ্দিন আহমদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপরিণামদর্শী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্তকে নির্দেশ করা হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী নিরীহ ছাত্রদের মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ভেবেছিল আন্দোলন দমন করা যাবে। কিন্তু এ অবিমৃষ্যকারিতার ফলে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করে এবং শাসকগোষ্ঠীর ভিত কেঁপে ওঠে। মূলত মানুষের বা কোনো রাজশক্তির পতন যখন আসন্ন হয়, তখন তারা একের পর এক অবিবেচকের মতো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে—এ বাস্তব সত্যটি বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' শীর্ষক রচনার পটভূমিগত দিক থেকে গভীর অভিন্নতা বিদ্যমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূল পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনৈতিক নিপীড়ন। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণের খবর যখন জেলখানায় পৌঁছায়, তখন অনশনরত শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশে তীব্র বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং নুরুল আমিনের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে অর্ধমাইল দীর্ঘ শোভাযাত্রা বের হয়েছে এবং সেখানে 'নূরুল আমিনের রক্ত চাই', 'নাজিমুদ্দিন গদি ছাড়' ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে লালদীঘি ময়দানে প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে। উদ্দীপকের এই প্রেক্ষাপটটি সরাসরি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। তাই উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকার ছাত্রহত্যার প্রতিবাদ এবং নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণবিক্ষোভের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সম্পূর্ণ একই ঐতিহাসিক পটভূমিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বক্তার বিড়ম্বিত পারিবারিক জীবনের নানা তথ্য রয়েছে যা উদ্দীপকে নেই"—মন্তব্যটি যথার্থ।
'বায়ান্নর দিনগুলো' শীর্ষক রচনায় কেবল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনাই নেই, বরং এতে রাজবন্দি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও বিড়ম্বনার চিত্রও নিবিড়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক কারাবাসের কারণে তিনি পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিশেষ করে অনশনকালীন চরম অসুস্থতার সময় তিনি ভেবেছিলেন হয়তো আর বাঁচবেন না। তখন তাঁর বৃদ্ধ পিতা, স্নেহময়ী মাতা, অবুঝ সন্তান (কামাল ও হাসিনা) এবং সহধর্মিণী রেণুর (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) প্রতি দায়িত্ব পালন করতে না পারার নিদারুণ বেদনা তাঁকে ব্যথিত করেছিল। মুক্তি পাওয়ার পর যখন তিনি বাড়ি পৌঁছান, তখন ছোট ছেলে কামাল বাবাকে চিনতে না পেরে হাসিনাকে জিজ্ঞেস করেছিল—"তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি?"—যা এক বেদনাবিধুর পারিবারিক বিড়ম্বনার বাস্তব দলিল।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিক্রিয়া এবং নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনের কোনো টানাপোড়েন, ত্যাগ কিংবা সম্পর্কের বিড়ম্বনার ইঙ্গিত পর্যন্ত নেই।
অতএব, উদ্দীপকটি কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার একটি খণ্ডাংশ প্রকাশ করে; কিন্তু 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক জীবনের যে গভীর বিষাদ ও বিড়ম্বনা উঠে এসেছে, উদ্দীপকে তা সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও