বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ

12.1.

একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।

12.2.

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন লেখো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।

১২.১. একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

মানুষ চিরকালই অজানাকে জানার এবং নতুনকে দেখার নেশায় ছুটে চলে। গত শীতের ছুটিতে আমার সুযোগ হয়েছিল ঐতিহাসিক স্থান ‘সোনারগাঁ’ ভ্রমণের। ঢাকা থেকে মাত্র আটাশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানটি ছিল প্রাচীন বাংলার এক গৌরবময় রাজধানী।

সকালে পরিবারের সাথে গাড়িতে করে রওয়ানা হয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই আমরা সোনারগাঁ পৌঁছাই। প্রবেশপথেই চোখ জুড়িয়ে গেল লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর এবং দৃষ্টিনন্দন বড় সর্দার বাড়ির স্থাপত্যশৈলী দেখে। জাদুঘরের ভেতরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, নকশিকাঁথা, কাঠের কারুকাজ এবং নানা নিদর্শন দেখে বাংলার প্রাচীন সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেলাম। এরপর আমরা হেঁটে গেলাম পানাম নগরে। এটি ছিল এক অপূর্ব ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। রাস্তার দুপাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতির প্রাচীন অট্টালিকাগুলো যেন কালের সাক্ষী হয়ে অতীতের আভিজাত্যের কথা বলছিল। প্রায় পরিত্যক্ত হলেও নগরটির গঠনশৈলী দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। সেখান থেকে কাছেই অবস্থিত ঈসা খাঁর প্রাচীন রাজধানী এবং গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মাজারও দর্শন করি।

দিনের আলো ম্লান হয়ে এলে আমরা ফেরার পথ ধরি। সোনারগাঁয়ের এই সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ আমাকে শুধু আনন্দই দেয়নি, বরং বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যা আমার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে।


অথবা, ১২.২. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য প্রতিবেদন

তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৪
বরাবর,
সম্পাদক
দৈনিক প্রথম আলো
কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

বিষয়: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

মহোদয়,
আপনার বহুল প্রচারিত ও সম্মানিত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি পাঠাচ্ছি। প্রতিবেদনটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে বিশ্বাস করি।

ধন্যবাদান্তে,
মো. রফিকুল ইসলাম
রাজশাহী।


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ও লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে চরম বিপন্ন করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে ডিম ও কাঁচাবাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা এবং সরু চালের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সয়াবিন তেল, আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কাঁচাবাজারের শাকসবজি ও মাছ-মাংসের অতিরিক্ত দাম সাধারণ পরিবারের পুষ্টির চাহিদায় টান ফেলছে। দিনমজুর ও নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবীরা বলছেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় তারা সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে সঞ্চয় ভাঙছেন কিংবা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তবে ক্রেতা সাধারণ ও ভোক্তা অধিকার সচেতনদের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মজুদদার ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য। অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে ন্যায্যমূল্যে ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতা দ্রুত বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অনতিবিলম্বে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন