বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিয়ের সাত বছর পরও রশিদ ও মেরিনার কোনো সন্তান নেই। তারা পাশের গ্রামের এক কামেল পিরের কাছে যায়। পির সাহেব রশিদকে বলে যে, "আপনাদের ইচ্ছা পূরণ হবার নয়; আপনি আবার বিয়ে করেন।" রশিদ তার নির্দেশ অমান্য করে স্ত্রীকে শহরের ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। ডাক্তারের চিকিৎসায় পরের বছর তাদের ঘর আলো করে সন্তান আসে।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসে হাসপাতালটি কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
"তাই তারা ছোটে, ছোটে।"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেরিনার সাথে আমেনা বিবির বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের রশিদ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা।"-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসে হাসপাতালটি মহকুমা শহরে বা সদরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তাই তারা ছোটে, ছোটে" বলতে পাহাড়ি অঞ্চলের অভাবী ও নিঃস্ব মানুষদের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে দূর-দূরান্তে কাজের খোঁজে ছড়িয়ে পড়াকে বোঝানো হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে মজিদের আদি নিবাস নোয়াখালী অঞ্চলের রুক্ষ পাহাড়ঘেরা এলাকা। সেখানে জমি অনুৎপাদনশীল হওয়ায় এবং মানুষের তুলনায় খাদ্যসংস্থান অপ্রতুল হওয়ায় প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ জীবিকার সন্ধানে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে রেলগাড়িতে চেপে অচেনা ও অজানা অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছুটে চলে। তাদের সেই অস্তিত্ব রক্ষার তাড়নাকেই উক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সন্তানহীনতা নিরসনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ও কুসংস্কারমুক্ত মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের মেরিনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আমেনা বিবির সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি দীর্ঘ তেরো বছর নিঃসন্তান থাকার পর সন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় অন্ধ কুসংস্কারের আশ্রয় নেন। তিনি মজিদের নিষেধ উপেক্ষা করে দূর গ্রামের পিরের 'পড়া পানি' এনে পেটে মালিশ করার চেষ্টা করেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমেনা বিবির নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত মজিদের কূটকৌশলে তাঁকেই অপরাধী সাব্যস্ত হতে হয় এবং সংসার হারাতে হয়।
বিপরীতে, উদ্দীপকের মেরিনা বিয়ের সাত বছর নিঃসন্তান থাকলেও কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্তের শিকার হয়নি। পির তাকে বাদ দিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দিলেও তার স্বামী তা প্রত্যাখ্যান করে এবং মেরিনা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার অধীনে গিয়ে সুস্থ হয়ে সন্তান লাভ করে। আমেনা বিবির মতো অপবাদ বা ভাগ্যবিড়ম্বনা মেরিনাকে বরণ করতে হয়নি। অন্ধ কুসংস্কারের বলি আমেনা বিবির অসহায়ত্বের সাথে আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ মেরিনার এই অবস্থানই তাদের মধ্যকার প্রধান বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের রশিদ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা"—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী ছিল গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর, যে ধর্মীয় ভণ্ড মজিদের হাতের পুতুল হয়ে অন্ধবিশ্বাসে পরিচালিত হতো। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পরও যখন মজিদ নিঃসন্তান আমেনা বিবির বিরুদ্ধে কুৎসিত চক্রান্ত ও 'প্যাঁচের কথা' বলে, তখন খালেক ব্যাপারী একটুও দ্বিধা না করে নিজের স্ত্রীকে তালাক দেয়। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বা মানবিক দায়বদ্ধতার চেয়ে তার কাছে অন্ধ কুসংস্কার ও মজিদের বিধানই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। সে ছিল বিবেকহীন ও পুরুষতান্ত্রিক শোষণের সহযোগী।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের রশিদ সম্পূর্ণ যুক্তিবাদী, সংবেদনশীল এবং স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত একজন আধুনিক মানুষ। পির সাহেব যখন মেরিনাকে সন্তানহীনতার জন্য দোষারোপ করে দ্বিতীয় বিয়ের বিধান দেয়, রশিদ তা অন্ধভাবে মেনে নেয়নি। বরং সে পিরের অবৈজ্ঞানিক নির্দেশ অমান্য করে স্ত্রীকে শহরের আধুনিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান পায়। স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সে মানবিকতা ও প্রগতির পরিচয় দিয়েছে।
অতএব, একজন যেখানে অন্ধবিশ্বাস ও ভণ্ডামির বশবর্তী হয়ে স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে ত্যাগ করে, অন্যজন সেখানে বিজ্ঞানমনস্কতা ও ভালোবাসার জোরে স্ত্রীর পাশে অবিচল থাকে। তাই তাদের দুই মেরুর বাসিন্দা বলা পুরোপুরি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও