যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকর-১: দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্য ঘাটতি বৃদ্ধি। পায়। আবার জনসংখ্যা হ্রাস পেলে খাদ্য ঘাটতি হ্রাস পায়।দৃশ্যকল্প-২: আলুসহ একটি বস্তার ওজন ৫২ কেজি। বস্তার ওজন ২ কেজি। অতএব, আলুর ওজন ৫০ কেজি।

  1. ক)

    'অপনয়ন' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    কাকতালীয় অনুপপত্তি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের কোন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ ইঙ্গিতকৃত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের পদ্ধতির সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় 'অপনয়ন' শব্দের অর্থ হলো বর্জন বা অপসারণ করা (বাদ দেওয়া)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ঘটনাকে তার পূর্ববর্তী যেকোনো একটি আকস্মিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার কারণে ঘটেছে বলে মনে করার যুক্তিদোষকে 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' (Post hoc ergo propter hoc) বলে। কার্যকারণ নিয়ম না মেনে কেবল সময়ের দিক থেকে আগে ঘটেছে বলেই কোনো পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ হিসেবে ধরে নিলে এ অনুপপত্তি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের 'অবশেষ পদ্ধতি' (Method of Residues)-কে নির্দেশ করে।

    অবশেষ পদ্ধতির মূল সূত্র হলো: কোনো ঘটনার যে অংশটি পূর্ববর্তী কোনো জানা কারণের কার্য বলে নিশ্চিত, সে অংশ বাদ দিলে অবশিষ্ট ঘটনার কারণ হবে অবশিষ্ট পূর্ববর্তী অবস্থা।

    দৃশ্যকল্প-২-এ মোট ওজন ৫২ কেজি (আলুসহ বস্তা)। আমরা পূর্বের অভিজ্ঞতায় জানি কেবল বস্তার ওজন ২ কেজি। সুতরাং মোট ওজন থেকে বস্তার ওজন (জানা কার্য ও কারণ) অপনয়ন বা বাদ দিলে অবশিষ্ট ৫০ কেজি স্বাভাবিকভাবেই আলুর ওজন নির্দেশ করে। এটি অবশেষ পদ্ধতির যথার্থ প্রয়োগ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্য ঘাটতি বাড়ে এবং জনসংখ্যা হ্রাস পেলে খাদ্য ঘাটতি কমে—এটি 'সহগামী পরিবর্তন পদ্ধতি' (Method of Concomitant Variations)-কে ইঙ্গিত করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ পদ্ধতির প্রধান সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অবিভাজ্য উপাদানের ক্ষেত্রে কার্যকর: যেসব কারণকে পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে পুরোপুরি আলাদা বা বর্জন (অপনয়ন) করা যায় না (যেমন: তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের চাপ, জনসংখ্যা, মাধ্যাকর্ষণ), সেসব ক্ষেত্রে একমাত্র সহগামী পরিবর্তন পদ্ধতির মাধ্যমেই কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় সম্ভব।
    ২. মাত্রাগত পরিবর্তন পরিমাপে সহায়ক: পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কার্যকারণের সুনির্দিষ্ট আনুপাতিক মাত্রা বা হার নিরূপণ করা যায়।
    ৩. বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি: আধুনিক বিজ্ঞানের বহু সূত্র (যেমন—বয়েলের চাপ ও আয়তনের সূত্র, জনসংখ্যাতত্ত্ব) এই পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
    ৪. নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য: এটি প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণে যেমন প্রয়োগ করা যায়, তেমনি ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম চলক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

    অতএব, পরিবর্তনশীল চলকসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ প্রমাণের ক্ষেত্রে সহগামী পরিবর্তন পদ্ধতি অত্যন্ত সুবিধাজনক ও ফলপ্রসূ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন