জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জিন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    লাইসোসোম-কে 'আত্মঘাতী থলিকা' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' যৌগটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের যৌগ 'B' যে ধরনের জৈব অণুর প্রতিনিধিত্ব করে, 'X' প্রক্রিয়া সংঘটনে তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কার্যকর ডিএনএ (DNA) অণুর নির্দিষ্ট অংশ বা কার্যকারী একককে জিন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাইসোসোমকে 'আত্মঘাতী থলিকা' বা 'সুইসাইডাল স্কোয়াড' বলা হয়, কারণ এতে তীব্র হাইড্রোলাইটিক বা বিগলনকারী এনজাইম থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় এই এনজাইমগুলো ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। কিন্তু কোষে তীব্র খাদ্যাভাব বা অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে অথবা কোষটি ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃতপ্রায় হলে লাইসোসোমের প্রাচীর বিদীর্ণ হয়ে এনজাইমগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে এবং কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুসহ পুরো কোষটিকে পরিপাক করে ধ্বংস করে দেয় (অটোলাইসিস)। এই কারণে লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' যৌগটি হলো DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)। ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক প্রদত্ত ডাবল হেলিক্স মডেল অনুযায়ী DNA-এর ভৌত গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

    ১. সূত্রকদ্বয়: DNA অণু দ্বি-সূত্রক, ডানাবর্তী পেঁচানো সিঁড়ির মতো (Double Helix)। সূত্রক দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী বা অ্যান্টিপ্যারালাল (একটি ৫' থেকে ৩' মুখী হলে অন্যটি ৩' থেকে ৫' মুখী)।
    ২. ব্যাকবোন ও ধাপ: প্রতিটি সূত্রক নিউক্লিওটাইডের পলিমার (পলিনউক্লিওটাইড)। এর বাইরের দিকের কাঠামো বা মেরুদণ্ড তৈরি হয় পর্যায়ক্রমিক ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার ও ফসফেট দ্বারা। আর ভেতরের দিকের ধাপগুলো তৈরি হয় ক্ষারকের জোড় (নাইট্রোজেনাস বেস পেয়ার) দিয়ে।
    ৩. পরিপূরক ক্ষারক জোড়: পিউরিন ও পাইরিমিডিন ক্ষারক হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে। অ্যাডেনিন (A) দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন দিয়ে থাইমিনের (T) সাথে (A=T) এবং গুয়ানিন (G) তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন দিয়ে সাইটোসিনের (C) সাথে (G≡C) যুক্ত থাকে।
    ৪. পরিমাপ: হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য ৩৪ Å (৩.৪ nm) এবং একটি পূর্ণ ঘূর্ণনে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। ফলে দুটি পাশাপাশি বেস-জোড়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩.৪ Å (০.৩৪ nm)। হেলিক্সের ব্যাস ২০ Å (২ nm)।
    ৫. খাঁজ: হেলিক্সে প্রতিটি প্যাঁচে একটি গভীর বা বড় খাঁজ (Major groove) এবং একটি অগভীর বা ছোট খাঁজ (Minor groove) থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যৌগ 'B' হলো mRNA, যা সামগ্রিকভাবে RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) নামক জৈব অণুকে প্রতিনিধিত্ব করে। যৌগ 'B' থেকে প্রোটিন সংশ্লেষণের 'X' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন (Translation)।

    ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার RNA-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বার্তা বহনকারী আরএনএ (mRNA): ডিএনএ থেকে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জেনেটিক বার্তা বা সংকেত কোডন (ট্রিপলেট কোডন) আকারে mRNA বহন করে নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোমে নিয়ে আসে। এটি প্রোটিন তৈরির ব্লু-প্রিন্ট বা ছাঁচ হিসেবে কাজ করে।

    ২. রাইবোসোমাল আরএনএ (rRNA): rRNA প্রোটিনের সাথে মিলিত হয়ে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা 'রাইবোসোম' গঠন করে। rRNA ট্রান্সলেশন চলাকালীন mRNA ও tRNA-কে সঠিক স্থানে আবদ্ধ রাখতে সাহায্য করে এবং পেপটাইড বন্ধন তৈরিতে পেপটিডিল ট্রান্সফারেজ হিসেবে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।

    ৩. ট্রান্সফার আরএনএ (tRNA): tRNA সাইটোপ্লাজম থেকে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড গ্রহণ করে সক্রিয় হয় এবং অ্যান্টি-কোডন লুপের মাধ্যমে mRNA-এর নির্দিষ্ট কোডনের সাথে পরিপূরকভাবে যুক্ত হয়ে রাইবোসোমে অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে।

    ৪. অন্যান্য ক্ষুদ্রাকার আরএনএ: সাইটোপ্লাজমে অন্যান্য ক্ষুদ্র আরএনএ ট্রান্সলেশন নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভুলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

    পরিশেষে, ট্রান্সলেশন বা 'X' প্রক্রিয়ায় mRNA বার্তা প্রদান করে, rRNA কর্মক্ষেত্র ও বিক্রিয়া পরিবেশ তৈরি করে এবং tRNA কাঁচামাল (অ্যামিনো অ্যাসিড) সরবরাহ করে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন শৃঙ্খল গঠন সম্পন্ন করে। সুতরাং, RNA অণু ছাড়া ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন