পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
X একজন রাজনৈতিক নেতা। মানুষের সেবায় তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাস করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ধর্মের ব্যবহারকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার সম্মোহনী নেতৃত্বের মধ্যে একটি স্বাধীন জাতির জন্ম হয়।
- ক)(1)
কৃষক-প্রজা পার্টি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
ফরায়েজী আন্দোলন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের X এর সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতাই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত প্রতিষ্ঠা করেছেন- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এ. কে. ফজলুল হক (শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক) ১৯৩৬ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজী আন্দোলন হলো উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত একটি ইসলামি পুনর্জাগরণমূলক ও কৃষক স্বার্থরক্ষাকারী সংস্কার আন্দোলন। এটি মূলত মুসলমানদের ইসলাম ধর্মের অবশ্য পালনীয় বিধান বা 'ফরজ' পালনের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তৎকালীন পূর্ব বাংলায় জমিদার ও নীলকরদের অন্যায় শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের অধিকার রক্ষায় গড়ে উঠেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'X' চরিত্রের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নেতা X মানুষের সেবায় রাজনীতি করতেন, সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাসী ছিলেন, রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারকে ঘৃণা করতেন এবং তাঁর সম্মোহনী নেতৃত্বে একটি স্বাধীন জাতির জন্ম হয়।
বাস্তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমৃত্যু বাংলার মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক নীতি ও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং সম্মোহনী নেতৃত্বের কারণেই ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের X চরিত্রটি সর্বতোভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির শক্ত ভিত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—উক্তিটি অনস্বীকার্য।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিক শোষণ ও বিভেদ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধী ছিলেন। ১৯৫৫ সালে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নাম 'আওয়ামী লীগ' করার পেছনে তাঁর অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা ও জোরালো ভূমিকা ছিল মুখ্য, যার মাধ্যমে অমুসলিমদের জন্যও দলের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
বঙ্গবন্ধু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ভিত্তিতে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' গড়ে তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছিল। স্বাধীনতার পর তাঁর প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে অন্যতম মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং, বাঙালি সমাজে উদার, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে তার সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও