‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের সরকারের শোষণ, নির্যাতন ও অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা শাসকগোষ্ঠীর নিকট রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে কিছু দাবি উত্থাপন করেন।

  1. ক)

    ভাষা আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত ছয়দফা কর্মসূচির কোনো সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচি ছিল বাঙালির বেঁচে থাকার দাবি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালে বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনই হলো ভাষা আন্দোলন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review) বলতে বোঝায় আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন বা শাসন বিভাগের কোনো আদেশ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য বিচার বিভাগের ক্ষমতা। যদি কোনো আইন বা আদেশ সংবিধানের মূল কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে আদালত তা অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচির সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের সরকারের শোষণ, নির্যাতন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে এবং একপর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন।

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং প্রতিরক্ষাহীনতার প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি পেশ করেন। ছয়দফায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন (রাজনৈতিক), মুদ্রা ও শুল্ক ব্যবস্থা (অর্থনৈতিক) এবং প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠন (সামরিক নিরাপত্তা)-সহ সামগ্রিক অধিকারের কথা বলা হয়েছিল। সুতরাং উদ্দীপকের নেতার উত্থাপিত দাবিগুলোর সাথে ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচির পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচি অর্থাৎ ১৯৬৬ সালের ছয়দফা দাবি ছিল মূলত বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বা বেঁচে থাকার প্রাণের দাবি— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার শিকার হয়। এই পটভূমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ছয়দফা দাবি পূর্ব বাংলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের রূপরেখা হয়ে দাঁড়ায়।

    ছয়দফা কর্মসূচির মূল কথা ছিল বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি। এই দাবির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণমুক্ত করার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা (যেমন- পৃথক বা সহজে রূপান্তরযোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা, কর ধার্যের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকা) এবং অঞ্চলটির প্রতিরক্ষায় নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। এটি কেবল একটি দাবি ছিল না, বরং বাঙালির স্বাধিকার ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একমাত্র অবলম্বন বা বাঁচার দাবি ছিল।

    ছয়দফার পথ ধরেই পরবর্তীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করে। অতএব, ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের শোষিত মানুষের বাঁচার ও মুক্তির একমাত্র সোপান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন