অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রায়হান তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণ এবং ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের হাত থেকে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত অর্থনীতি সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছে এবং অর্থনীতির বেশ কিছু সূচক যেমন- শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করি ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

  1. ক)

    অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

    (1)
  2. খ)

    'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাথমিক খাতের প্রাধান্য রয়েছে' বলতে তুমি কি বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে শাসন ও শোষণের তিনটি উদাহরণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক হতে তুমি কি মনে কর বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের অর্থনীতি যেসব মৌল উপাদান, খাত (যেমন- কৃষি, শিল্প, সেবা) এবং নিয়ম-পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ও গঠিত হয়, তাকে অর্থনৈতিক কাঠামো বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাথমিক খাতের প্রাধান্য রয়েছে' বলতে বোঝায় দেশের জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থানে প্রাথমিক খাত তথা কৃষি, বনজ সম্পদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক প্রভাব বিদ্যমান। যদিও সময়ের সাথে সাথে জাতীয় উৎপাদনে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়ছে, তবুও জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবনধারণের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং অভ্যন্তরীণ কাঁচামালের প্রধান উৎস হিসেবে এ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ইংরেজ ও পাকিস্তানি শাসকদের শাসন ও শোষণের তিনটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. কুখ্যাত সূর্যাস্ত আইন ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (ইংরেজ আমল): ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কৃষকদের জমির মালিকানা কেড়ে নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী জমিদারদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের ফলে বাংলার কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়।

    ২. ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের ধ্বংস সাধন (ইংরেজ আমল): ব্রিটিশরা নিজেদের ম্যানচেস্টারের কাপড়ের বাজার সৃষ্টির জন্য বাংলার বিশ্ববিখ্যাত মসলিন ও তাঁত শিল্প ধ্বংস করে। তারা তাঁতিদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালায় এবং কাঁচামাল সস্তায় ব্রিটেনে পাচার করে এ দেশকে শিল্পজাত পণ্যের বাজারে পরিণত করে।

    ৩. বৈদেশিক বাণিজ্য ও রাজস্ব বণ্টনে বৈষম্য (পাকিস্তানি আমল): পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য রপ্তানি থেকে সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও তা ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। জাতীয় রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করে পূর্ব পাকিস্তানকে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের শিকার করা হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কারণসমূহ ও বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:

    ১. শিল্প খাতের বিকাশ: স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি কাটিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া শিল্পে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিল্প খাতের ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি জিডিপিতে এর অবদান বৃদ্ধি করছে।

    ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতি: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ। বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের কলকারখানা চালু রাখতে এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে।

    ৩. প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি: অনুকূল পরিবেশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) স্থাপন এবং সস্তা ও দক্ষ শ্রমের কারণে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করছে।

    ৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: সড়ক, সেতু, বন্দর ইত্যাদির উন্নয়ন দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ব্যয় হ্রাস করেছে ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করেছে।

    সুতরাং, উল্লিখিত সূচকগুলোর ইতিবাচক ধারা প্রমাণ করে যে শোষণ ও যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে বাংলাদেশ একটি টেকসই ও গতিশীল অর্থনীতির দিকে সাফল্যের সাথে ধাবিত হচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন