DU • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ ইউনিট (কলা) ভর্তি পরীক্ষা ২০২১-২০২২

প্রশ্ন ও সমাধান

অনুচ্ছেদটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর (ক-ঙ) উত্তর দাও।চিরকাল গলার স্বর আমার কাছে বড়ো সত্য। রূপ জিনিসটি বড়ো কম নয়, কিন্তু মানুষের মধ্যে যাহা অন্তরতম এবং অনির্বচনীয়, আমার মনে হয় কণ্ঠস্বর যেন তারই চেহারা। আমি তাড়াতাড়ি গাড়িতে জানালা খুলিয়া বাহিরে মুখ বাড়াইয়া দিলাম, কিছুই দেখিলাম না। প্লাটিফর্মের অন্ধকারে দাঁড়াইয়া গার্ড তারার একচক্ষু লণ্ঠন। নাড়িয়া দিল, গাড়ি চলিল: আমি জানালার কাছে বসিয়া রহিলাম। আমার চোখের সামনে কোন মূর্তি ছিল না, কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে আমি একটি হৃদয়ের রূপ দেখিতে। লাগিলাম। সে যেন এই তারাময়ী রাত্রির মতো, আবৃত করিয়া ধরে কিন্তু তাহাকে ধরিতে পারা যায় না। ওগো সুর, অচেনা কণ্ঠের সুর, এক নিমেষে তুমি যে আমার। চিরপরিচয়ের আসনটির উপরে আসিয়া বসিয়াছ। কী আশ্চর্য পরিপূর্ণ তুমি- চঞ্চল কালের ক্ষুব্ধ হৃদয়ের উপরে ফুলটির মতো ফুটিয়াছ, অথচ তার ঢেউ লাগিয়া একটি পাপড়িও টলে নাই, অপরিমেয় কোমলতায় এতটুকু দাগ পড়ে নাই।

(3.1) 'অন্তরতম' ও 'অনির্বচনীয়' শব্দ দুটির মাধ্যমে কথক কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছেন?

(3.2) 'একচক্ষু লণ্ঠন' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(3.3) 'সে যেন এই তারাময়ী রাত্রির মতো'- উক্তিটির তাৎপর্য কী?

(3.4) কখন কাকে 'তুমি' সম্বোধন করেছে?

(3.5) অনুচ্ছেদটিতে কণ্ঠস্বরকে কীভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(3.1)
‘অন্তরতম’ ও ‘অনির্বচনীয়’ শব্দ দুটির মাধ্যমে কথক মানুষের গভীরতম, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এমন সত্তাকে নির্দেশ করেছেন। তাঁর মতে, রূপের চেয়েও কণ্ঠস্বর সেই অন্তরতম ও অনির্বচনীয় সত্তার প্রতিচ্ছবি।

(3.2)
‘একচক্ষু লণ্ঠন’ বলতে ট্রেনের গার্ডের হাতের একটি আলোর লণ্ঠনকে বোঝানো হয়েছে। লণ্ঠনটি একটিমাত্র চোখের মতো আলো ছড়ায় বলে এই রূপক ব্যবহৃত হয়েছে। প্ল্যাটফর্মের অন্ধকারে গার্ড তা নেড়ে ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেয়।

(3.3)
উক্তিটির তাৎপর্য হলো, কণ্ঠস্বরের মধ্য দিয়ে কথকের কল্পিত হৃদয়ের রূপটি তারাময়ী রাতের মতোই রহস্যময়, বিস্তৃত ও মোহময়। রাত যেমন চারপাশ আবৃত করে রাখে অথচ তাকে স্পর্শ করে ধরা যায় না, সেই কণ্ঠের অধিকারীও তেমনি অনুভবে ধরা দেয় কিন্তু নাগালের বাইরে থাকে।

(3.4)
রাতের ট্রেনযাত্রায় অন্ধকারে কিছু দেখতে না পেয়ে, অচেনা কণ্ঠের সুর শুনে কথক সেই সুরকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেছেন। এক নিমেষেই ওই সুর তাঁর চিরপরিচিত আসনে স্থান করে নিয়েছে বলে তিনি তাকে আপন মনে করেছেন।

(3.5)
অনুচ্ছেদটিতে কণ্ঠস্বরকে মানুষের অন্তরতম ও অনির্বচনীয় সত্তার চেহারা বলে রূপের চেয়েও বড় সত্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। একে তারাময়ী রাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, চঞ্চল কালের ক্ষুব্ধ হৃদয়ের ওপর কণ্ঠস্বর ফুলের মতো ফুটে আছে। সেই ফুলের পাপড়িও ঢেউয়ের আঘাতে টলে না এবং তার অপরিমেয় কোমলতায় কোনো দাগ পড়ে না। এভাবে কণ্ঠস্বরের পরিপূর্ণতা, শুদ্ধতা ও অক্ষয় সৌন্দর্যকে মহিমান্বিত করা হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন