‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সফিপুর নামক অঞ্চলটি আয়তনে অনেক বড়। জনসংখ্যাও অনেক বেশি। একজন শাসকের পক্ষে পুরো অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাছাড়া উক্ত অঞ্চলে বসবাসরত অধিবাসীদের একটা অংশ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের একজন মহান নেতা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের মতামত দেয়। মতামতের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটি বিভক্ত করে। কিন্তু একটি পক্ষের তীব্র বিরোধিতায় পরবর্তীতে তা রদ করা হয়। এতে অন্য পক্ষ হতাশ হয় এবং দুটি পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠে।

  1. ক)

    পলাশীর যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের যে ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্রের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে প্রদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষমতাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতে সর্বপ্রথম সীমিত আকারে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল। এর ফলে প্রদেশগুলো নিজস্ব বিষয়সমূহে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্বাতন্ত্র্য লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ' ঘটনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    বঙ্গ প্রদেশটি ছিল আয়তনে বিশাল ও বিপুল জনসংখ্যার এক ভৌগোলিক অঞ্চল। একজন গভর্নরের পক্ষে সমগ্র বাংলা দক্ষতার সাথে শাসন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাছাড়া পূর্ব বাংলার মুসলমান ও অন্যান্য অধিবাসীরা শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য নবাব সলিমুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার লর্ড কার্জনের আমলে ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করে। উদ্দীপকের সফিপুর অঞ্চল বিশাল হওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা, অধিবাসীদের সুবিধাবঞ্চনা এবং এক মহান নেতার সুপারিশে অঞ্চলটি বিভক্ত হওয়ার বিষয়টিতে এই বঙ্গভঙ্গের প্রতিফলন দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটি হলো—"কিন্তু একটি পক্ষের তীব্র বিরোধিতায় পরবর্তীতে তা রদ করা হয়। এতে অন্য পক্ষ হতাশ হয় এবং দুটি পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠে।"—উক্তিটি বঙ্গভঙ্গ ও তার রদের ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজ এটিকে তাদের অগ্রগতির সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানায়। অপরদিকে হিন্দু উচ্চবিত্ত, জমিদার, বুদ্ধিজীবী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। তারা বঙ্গভঙ্গকে 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ' আখ্যা দিয়ে স্বদেশি আন্দোলন ও বয়কট কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং চরমপন্থী আন্দোলনের সূচনা করেন।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের এই প্রচণ্ড আন্দোলনের চাপে নতিস্বীকার করে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় মুসলিম সমাজ গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়। তারা উপলব্ধি করে যে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হলে পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান জরুরি। এর ফলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস ও তিক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে ভারত বিভক্তির পথ উন্মোচিত করে। সুতরাং, উদ্দীপকের উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন