অর্থনীতি ২য় পত্র • জনসংখ্যা ও মানব সম্পদ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা দায় নয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। ফলে সে সমস্ত দেশ উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও এদেশের আয়তনের তুলনায় অধিক জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর। সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে সচেষ্ট। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণে সজাগ দৃষ্টি দিয়েছে। শিক্ষিত অম্ল-শিক্ষিত যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ প্রদান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা মানবসম্পদে পরিণত হবে।
- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?
- খ)(2)
বহিরাগমন জনসংখ্যার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়নের পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিষয়টি নারী উন্নয়নের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার বা একক আয়তনের জমিতে গড়ে যতজন লোক বাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্য কোনো স্থান বা দেশ থেকে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বা দেশে লোকজনের স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আসাকে বহিরাগমন (Immigration) বলে। বহিরাগমনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। একই সাথে এটি জনসংখ্যার ঘনত্ব, শ্রমবাজার এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদ বা মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের চিত্র ফুটে উঠেছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ হলো:
১. শিক্ষার আধুনিকায়ন: সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক।
২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ: পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে।
৩. প্রশিক্ষণ প্রদান: শিক্ষিত ও অল্প-শিক্ষিত যুবকদের বিভিন্ন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত করা হচ্ছে।
৪. সহজ শর্তে ঋণ প্রদান: আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুবকদের আর্থিক ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
৫. বৈদেশিক কর্মসংস্থান: দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার সহযোগিতা প্রদান করছে।
এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝা না রেখে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মূল বিষয়বস্তু হলো জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর, যা নারী উন্নয়নের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই এই বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রেখে সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
১. শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা: উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে সহায়তা করে, যা তাদের বাল্যবিয়ে রোধ ও অধিকার সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করে।
২. কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান: বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান নারীদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক। হস্তশিল্প, সেলাই, কম্পিউটার বা তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে।
৩. কর্মসংস্থান ও জাতীয় উৎপাদন: নারী যখন দক্ষ হয়ে দেশের ভেতরে বা বিদেশে কাজ করে, তখন পরিবারের আয় বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তা সরাসরি অবদান রাখে।
সুতরাং, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ফলে উদ্দীপকের মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারণাটি সরাসরি নারী উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও